ডেঙ্গু মোকাবিলায় নতুন ওয়ার্ড, স্বাস্থ্য খাতে নতুন প্রত্যাশার বার্তা


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুলাই ৪, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ন / ০ Views
ডেঙ্গু মোকাবিলায় নতুন ওয়ার্ড, স্বাস্থ্য খাতে নতুন প্রত্যাশার বার্তা

দেশের স্বাস্থ্য খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়লেই হবে না—সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হবে।

চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে নবনির্মিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডের উদ্বোধন এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না, সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে। স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন আনাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।

অর্থমন্ত্রী জানান, এবারের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

সরকারের লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। তবে এই বিনিয়োগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে অর্থের কার্যকর ব্যবহার এবং সেবার মানোন্নয়নের ওপর।

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অতীতের দুর্নীতি ও অপচয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনকল্যাণে সর্বাধিক ভূমিকা রাখবে—এমন প্রকল্পেই সরকার বিনিয়োগ করছে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করতে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

তাঁর ভাষ্য, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর করা গেলে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমবে এবং মানুষ স্থানীয় পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে।

চিকিৎসক, শিক্ষক ও স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসেবার গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে।

শুধু নতুন ভবন নির্মাণ বা বাজেট বৃদ্ধি নয়, সেবার মান, পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা গেলে জনগণ সরকারের বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল অনুভব করবে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরজুড়ে মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু হওয়ায় রোগীরা দ্রুত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাবেন।

হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং সেবার পরিবেশ আরও উন্নত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সভায় হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধি, জনবল সংকট নিরসন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, হাসপাতালের পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।