
স্নায়ুচাপের চরম পরীক্ষা, গ্যালারিজুড়ে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা আর মাঠের বুকে শতভাগ রোমাঞ্চ—ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বের ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীরা সাক্ষী হলো এক মহানাটকীয় লড়াইয়ের।
নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের তুমুল যুদ্ধ শেষে পেনাল্টি শুটআউটের অগ্নিপরীক্ষায় অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ‘ফারাও’ খ্যাত মিসর।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে উত্তাপ ছড়ায় মাঠে। ম্যাচের মাত্র ১৩ মিনিটেই গ্যালারি মাতান মিসরের এমাম আশৌর।
তাঁর দারুণ এক নিখুঁত শটে লিড নেয় মিসরীয়রা। প্রথমার্ধে এই লিড ধরে রেখে চালকের আসনেই ছিল মোহামেদ সালাহরা।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ভাগ্য দেবীর নির্মম পরিহাসের শিকার হয় মিসর। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি।
এই আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে ১-১ সমতায় ফেরে সকারুরা। এরপর নির্ধারিত সময়ের বাকিটা অংশ এবং অতিরিক্ত সময়েও দুই দল বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও জালের দেখা পায়নি কেউ। ফলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারের ভাগ্যলটারিতে।
টাইব্রেকারে যেখানে স্নায়ু ধরে রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ, সেখানেই বাজিমাত করে মিসর। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম শট নিতে এসেই লক্ষ্যভ্রষ্ট হন হ্যারি সুটার।
এরপর জ্যাকসন আরভাইন এবং আওয়ার মাবিল গোল করে অজিদের আশা বাঁচিয়ে রাখলেও, চতুর্থ শটে লুকাস হেরিংটনের মিস অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, চাপের মুখে ইস্পাতকঠিন মানসিকতার পরিচয় দেয় মিসর। মাহমুদ সাবের ও রামি রাবিয়ার পর দলের সেরা তারকা মোহামেদ সালাহ গোল করে দলের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে নিয়ে যান।
শেষ শটে হোসাম আবদেলমাগুইদ কোনো ভুল করেননি; নিখুঁত নিশানায় বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মাতান পুরো দলকে। টানা ৪টি সফল শটে ৪-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফারাওরা।
ম্যাচ হাইলাইটস
নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়: মিসর ১ – ১ অস্ট্রেলিয়া
টাইব্রেকার: মিসর ৪ – ২ অস্ট্রেলিয়া
স্কোরার: এমাম আশৌর (১৩ মিনিট); মোহাম্মদ হানি (৫৫ মিনিট, আত্মঘাতী)
এক নজরে ম্যাচের পরিসংখ্যান:
বল দখল: মিসর ৫৮% | অস্ট্রেলিয়া ৪২%
মোট শট: মিসর ১৪ | অস্ট্রেলিয়া ১৫
সফল পাস: মিসর ৬৯৬ (৮৯%) | অস্ট্রেলিয়া ৫১৮ (৮১%)
পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচের ৫৮ শতাংশ সময় বল পায়ে রেখে মাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল মিসরেরই। তবে আক্রমণে অজিরাও কম যায়নি, তারা শট নিয়েছিল ১৫টি।
কিন্তু পাসিংয়ের দাপট (৮৯% সফলতায় ৬৯৬টি পাস) আর শেষ মুহূর্তের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে শেষ পর্যন্ত হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে সালাহর মিসরই, আর অশ্রুসিক্ত চোখে বিশ্বকাপকে বিদায় জানালো অস্ট্রেলিয়া।






















আপনার মতামত লিখুন :