১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই রহস্যময় মৃত্যু: একজন গৃহবধূ, একজন জেলে!


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুলাই ৪, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ন /
১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই রহস্যময় মৃত্যু: একজন গৃহবধূ, একজন জেলে!

মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধান। এর মধ্যেই চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ঘটে গেল দুটি নির্মম ও রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা।

একটি ঘরে কন্যাসন্তানকে রেখে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন এক তরুণী গৃহবধূ, আর অন্য ঘরে দুই কন্যাসন্তানের বাবার নিথর দেহ মিলল গাছের ডালে।

দুটি ভিন্ন ঘটনা, ভিন্ন স্থান, কিন্তু দুই পরিবারেই এখন চলছে শোকের মাতম। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা এবং শনিবার সকালে উপজেলার পৃথক দুটি এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন-বটতলী ইউনিয়নের পূর্ব বরইয়া এলাকার উম্মে হাবিবা (২২) এবং সদর ইউনিয়নের ঘনপুকুরপাড় এলাকার জেলে জিকু সর্দ্দার (৩৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সাড়ে ৭টার দিকে ২২ বছর বয়সী গৃহবধূ উম্মে হাবিবাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উম্মে হাবিবা সায়েদ ইমরানের স্ত্রী এবং একটি কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন।

হাবিবার পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে চরম অভিমান থেকে তিনি ঘরে থাকা ইঁদুর মারার বিষ পান করেছিলেন।

তবে এটি শুধুই আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো প্ররোচনা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

হাবিবার মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই শনিবার সকাল ৯টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে একটি ফোন আসে।

পুলিশ জানতে পারে, আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের ঘনপুকুরপাড় এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে এক ব্যক্তির মরদেহ ঝুলছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ জেলে জিকু সর্দ্দারের মরদেহ উদ্ধার করে।

জিকু সর্দ্দার মূলত বিলপুর হাঁড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা হলেও, স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান নিয়ে ঘনপুকুরপাড়ের ভট্টাচার্য নিবাস কলোনির একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

জিকুর পরিবারের অভিযোগের আঙুল এক আত্মীয়ের দিকে। তাদের দাবি, স্ত্রীর বোনের স্বামীর (ভায়রা ভাই) সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে জিকুর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল।

সেই বিরোধের জেরে জিকুকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের তীব্র সন্দেহ।

জিকুর স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, গত কয়েকদিন ধরেই তার স্বামী প্রচণ্ড মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন।

পাওনা টাকা নিয়ে ঝামেলার কথা বললেও বিস্তারিত কিছু খুলে বলেননি। শুধু জানিয়েছিলেন, কিছু টাকা ব্যাংকে জমা আছে।

একই উপজেলায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “গৃহবধূ উম্মে হাবিবার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে জেলে জিকু সর্দ্দারের মৃত্যুর ঘটনাটিও আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। দুটি ঘটনাতেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

দুটি ভিন্ন পরিবার, কিন্তু মিল এক জায়গায়—দুই ঘরেই রয়ে গেছে মাতৃহীন ও পিতৃহীন কন্যাসন্তানেরা। এই দুই মৃত্যুর পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল সত্য উদঘাটনই এখন পুলিশের বড় চ্যালেঞ্জ।