
প্রয়াত স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে নিয়ামত উল্লাহ ভুইয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।
আত্মসমর্পণের পর তিনি জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেন জাহের আলভী।
শুনানি শেষে আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি শুনে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আসামিপক্ষের জামিন আবেদনে দাবি করা হয়, জাহের আলভী ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন।
মামলাটি ব্যক্তিগত বিরোধ ও প্রতিহিংসা থেকে দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। আবেদনে আরও বলা হয়, এজাহারে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।
আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, নাটক নির্মাণের কাজে ২৫ ফেব্রুয়ারি নেপালে অবস্থানকালে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পাশাপাশি তার শারীরিক অসুস্থতার কথাও তুলে ধরা হয়।
বলা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ব্রঙ্কাইটিসে ভুগছেন এবং ১৩ জুন শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।
তাই তাকে কারাগারে রাখা হলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এই যুক্তিতে জামিন প্রার্থনা করা হয়।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে বলেন, মামলার অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি রয়েছে এবং তদন্ত চলমান অবস্থায় আসামিকে জামিনে মুক্তি দিলে তা তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওইদিন রাতেই ইকরার বাবা কবির হায়াত খান মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।
জাহের আলভী ও ইকরা ২০১০ সালে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
এই মামলায় এর আগে গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।






















আপনার মতামত লিখুন :