দুইবার পিছিয়ে পড়েও প্রত্যাবর্তন, বিশ্বকাপ মিশনে ইরানের লড়াকু শুরু


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুন ১৬, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন /
দুইবার পিছিয়ে পড়েও প্রত্যাবর্তন, বিশ্বকাপ মিশনে ইরানের লড়াকু শুরু

বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানের যাত্রা শুরু হলো নানা বিতর্ক, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মাঠের বাইরের প্রতিবাদের আবহে।

তবে সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দারুণ লড়াই করে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে ‘টিম মেলি’ খ্যাত ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক সংঘাতের কারণে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ছিল অনিশ্চয়তা।

ভিসা পেতে বিলম্ব, কিছু ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং শেষ মুহূর্তে মেক্সিকোতে অনুশীলন ক্যাম্প স্থানান্তর—সব মিলিয়ে কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই টুর্নামেন্টে নামতে হয়েছে ইরানকে।

ম্যাচের দিনও উত্তেজনার কমতি ছিল না। স্টেডিয়ামের বাইরে শত শত সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী বিক্ষোভ করেন।

তাদের দাবি, বর্তমান দলটি দেশের জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করে না। স্টেডিয়ামের ভেতরেও দেখা যায় প্রতিবাদের ছাপ।

ফিফার রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অনেক দর্শক সরকারবিরোধী স্মারক বহন করেন। জাতীয় সংগীতের সময় গ্যালারিতে দুয়োধ্বনি ও করতালিও শোনা যায়।

তবে ম্যাচের আগে ইরানের কোচ আমির ঘালিনোই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, তার খেলোয়াড়েরা কোনো ধরনের হইচই বা প্রচারণায় কান দেবেন না। মাঠে নেমে সেই মনোযোগেরই প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করে তার দল।

কিন্তু ম্যাচের শুরুটা ছিল ইরানের জন্য হতাশার। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কম র‌্যাঙ্কিংধারী দল নিউজিল্যান্ড মাত্র সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায়।

নটিংহাম ফরেস্টের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার ক্রিস উডের পাস এবং সরপ্রীত সিংয়ের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর ইলাইজাহ জাস্ট অসাধারণ এক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন।

গোল হজমের পর আক্রমণের ধার বাড়ায় ইরান। ২৩তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ইন্টার মিলানের সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি।

তার দূরপাল্লার শট ডান পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষক ম্যাক্স ক্রোকম্ব বক্সের বাইরে চলে আসলে ফাঁকা পোস্টে বল পাঠানোর সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি ইরান।

তবে ৩২তম মিনিটে আর ভুল করেনি তারা। সামান ঘোদ্দোসের পাস থেকে শাহরিয়ার মঘানলুর শট ফিন সারম্যানের পায়ে লেগে ফিরে এলে রিবাউন্ডে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান উইংব্যাক রামিন রেজাইয়ান।

প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে আলি নেমাতির একটি হেড অফসাইডের কারণে বাতিল হলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর আবারও চমক দেখায় নিউজিল্যান্ড। ৫৫তম মিনিটে লিবেরাতো কাকাসে মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে ক্রিস উডকে পাস দেন।

এরপর উডের সঙ্গে দুর্দান্ত ওয়ান-টু খেলে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মাদারওয়েলের স্ট্রাইকার ইলাইজাহ জাস্ট। তার জোড়া গোলে আবারও এগিয়ে যায় কিউইরা।

তবে ইরানও হাল ছাড়েনি। মাত্র নয় মিনিট পর রামিন রেজাইয়ানের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো সমতা ফেরান মোহাম্মদ মোহেবি।

এরপর ম্যাচের শেষ আধা ঘণ্টায় একের পর এক আক্রমণ চালায় ইরান। কিন্তু ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা এবং নিউজিল্যান্ডের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের কারণে কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোল আর পাওয়া হয়নি। ফলে রোমাঞ্চকর এই লড়াই শেষ হয় ২-২ সমতায়।

এই ড্রয়ের ফলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পথে কিছুটা ধাক্কা খেল ইরান। তবে গ্রুপ ‘জি’-এর অন্য ম্যাচে মিশর ও বেলজিয়ামের লড়াইটিও ড্র হওয়ায় এখনো সমীকরণ সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, সাহসী পারফরম্যান্সে মূল্যবান এক পয়েন্ট পেলেও বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো নিউজিল্যান্ডের।