
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রোববার রাতটি কেটেছে রাজনৈতিক উত্তেজনা, শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার আবহে।
পৃথক ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা পাল্টাপাল্টি মিছিল ও স্লোগান কর্মসূচি পালন করলে একপর্যায়ে দুই সংগঠনের কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসেন।
এতে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ছাত্রদল।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুম ও অপহরণের নাটক’ সাজানোর অভিযোগ তুলে আয়োজিত এ কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকা থেকে শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দী মোড় ঘুরে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।
মিছিলে অংশ নেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দীকিসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী।
এর কিছুক্ষণ পরই নতুন করে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়। বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক হিজাব নিয়ে কটূক্তি করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে রাত ১০টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইসলামী ছাত্রশিবির।
মিছিল শুরুর আগে গোলচত্বর এলাকায় জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
তখন একই এলাকায় অবস্থান করছিলেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও। দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি স্লোগান।
মুহূর্তেই গোলচত্বর এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। সংঘর্ষের আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী নিরাপদ দূরত্বে সরে যান এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।
যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তবে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অনেকে মনে করেন, সামান্য উসকানি বা ভুল বোঝাবুঝি পরিস্থিতিকে অন্যদিকে নিয়ে যেতে পারত।
কারণ, একই স্থানে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের সংগঠনের মুখোমুখি উপস্থিতি ক্যাম্পাসে অস্বস্তি ও উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।
পরে গোলচত্বর থেকে মিছিল শুরু করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন চাকসুর ভিপি ও শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইব্রাহীম, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব এবং শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালেদ।
সঞ্চালনা করেন চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক এবং শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের ছাত্র অধিকারবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি শুরু থেকেই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন বলেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পৃথক কর্মসূচি ছিল। একপর্যায়ে তারা মুখোমুখি অবস্থান নিলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উভয় সংগঠন শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেছে। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও নিরাপত্তাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির কয়েকজন শিক্ষকের মতে, এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মুখোমুখি অবস্থান এবং পাল্টাপাল্টি শ্লোগানে সংঘর্ষ না ঘটলেও রাজনৈতিক মেরুকরণ কত দ্রুত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে সেটিই দৃশ্যমান হয়েছে।
তাছাড়া দুই সংগঠনের পৃথক কর্মসূচি, ভিন্ন ইস্যু এবং একই স্থানে অবস্থান—এই তিনটি উপাদান মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে শঙ্কার আবহ সৃষ্টি করেছে।
শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ঘটনাটি ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।






















আপনার মতামত লিখুন :