
ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আশরাফ হাকিমি বলেছিলেন, কার্লো আনচেলত্তির সব বই তাঁর পড়া হয়ে গেছে। রোববার ভোরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই কথার বাস্তব প্রতিফলনই যেন দেখা গেল মাঠে।
বিশ্বমানের আক্রমণভাগ নিয়ে নামা ব্রাজিলকে দারুণ শৃঙ্খলিত ফুটবল খেলে আটকে দিল মরক্কো। ফলে বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুতেই ১-১ গোলের ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
নেইমারকে ছাড়া মাঠে নামা ব্রাজিল শুরু থেকেই নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেতে হিমশিম খায়। অন্যদিকে মরক্কো ছিল আত্মবিশ্বাসী, সংগঠিত এবং পরিকল্পিত।
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আফ্রিকার দলটি। বাম দিক থেকে ছোট ছোট পাসে গড়া আক্রমণে ব্রাজিলের ডি-বক্সে বল পান তরুণ মিডফিল্ডার বেনজামিন এল আইনুই।
তাঁর শট লক্ষ্যভেদ করার আগেই গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস সামনে এসে বিপদ ঠেকান।
প্রথম ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ব্রাজিল। এক পর্যায়ে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দারুণ সুযোগও তৈরি হয়েছিল।
লফটেড পাস পেয়ে ইগর থিয়াগো ভালো অবস্থানে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বলের সঙ্গে ঠিকঠাক সংযোগ করতে না পারায় সুযোগ হাতছাড়া হয়।
ব্রাজিল যখন নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছিল, তখনই আসে মরক্কোর কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ম্যাচের ২১তম মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাসে ব্রাজিলের রক্ষণ ভেদ করে এগিয়ে যান ইসমায়েল সাইবারি। তাঁর শটেই জালে বল জড়িয়ে যায়, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে মরক্কোর শিবির।
তবে ব্রাজিলের জবাব আসতে খুব বেশি সময় লাগেনি। পিছিয়ে পড়ার মাত্র ১১ মিনিট পর নিজের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে দলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ূস জুনিয়র।
ম্যাচের ৩২তম মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে এক মরক্কান ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত গতির শটে গোল করেন তিনি। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো ঝাঁপিয়েও সেই শট ঠেকাতে পারেননি।
ভিনিসিয়ূসের এই গোল শুধু ব্রাজিলকে ম্যাচে ফেরায়নি, ব্যক্তিগতভাবেও এনে দিয়েছে একটি বিশেষ মাইলফলক। ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে এটি তাঁর ৫০তম আন্তর্জাতিক গোল।
১-১ সমতায় বিরতিতে যাওয়া দুই দল দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ–পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে রাখে। ব্রাজিল বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও মরক্কোর রক্ষণ ছিল অবিচল।
আবার সুযোগ পেলেই দ্রুতগতির আক্রমণে ব্রাজিলকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল এবং আশরাফ হাকিমির অনুপ্রাণিত মরক্কোকে।
বিশ্বকাপের শুরুতেই এই ড্র হয়তো ব্রাজিলের জন্য সতর্কবার্তা। আর মরক্কোর জন্য এটি প্রমাণ করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বিশ্বের সেরাদের বিপক্ষেও তারা সমানতালে লড়তে প্রস্তুত।






















আপনার মতামত লিখুন :