নেইমারকে ঘিরে সব জল্পনার অবসান, বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের ‘নম্বর ওয়ান বাজি’


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : মে ১৯, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ন /
নেইমারকে ঘিরে সব জল্পনার অবসান, বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের ‘নম্বর ওয়ান বাজি’

সব জল্পনা, সব উৎকণ্ঠার অবসান। অবশেষে নেইমার জুনিয়রকে রেখেই বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলোত্তি।

বাংলাদেশ সময় সোমবার গভীর রাতে রিও ডি জেনেইরোতে জমকালো সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা আসতেই মুহূর্তেই উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে ফুটবল দুনিয়ায়।

২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে হাঁটুর গুরুতর চোটে ছিটকে পড়েছিলেন নেইমার। সেই থেকেই শুরু হয় অনিশ্চয়তার দীর্ঘ অধ্যায়।

অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ পুনর্বাসন আর ফর্মে ফেরার কঠিন লড়াইয়ের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে এক সময় তিনি সৌদি আরবের আল হিলাল ছেড়ে ফিরে যান শৈশবের ক্লাব সান্তোস এফসিতে।

লক্ষ্য একটাই—নিজেকে আবার প্রমাণ করা। ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরলেও জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া হয়ে উঠছিল অনিশ্চিত।

গত মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও তাকে স্কোয়াডে রাখেননি আনচেলোত্তি। তখনই কোচ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন—পূর্ণ ফিট না হলে নেইমার বিশ্বকাপ দলে থাকবেন না।

অবশেষে সেই কঠিন অবস্থানেই ব্যতিক্রম ঘটল। বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ২৬ জনের তালিকায় নেইমারর নাম ঘোষণা হতেই রিওর সাংবাদিক সম্মেলন কক্ষ যেন এক মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে।

আনচেলোত্তির ব্যাখ্যাও ছিল স্পষ্ট ও দৃঢ়। তিনি বলেন, “পরিবর্ত হিসেবে খেলানোর কথা ভেবে নেইমারকে দলে নেওয়া হয়নি। নিজের দক্ষতা দিয়েই সে দলে অবদান রাখতে পারবে বলেই নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “নেইমার এক মিনিট খেলবে, পাঁচ মিনিট খেলবে, নাকি পুরো ৯০ মিনিট—আমি জানি না।

এমনকি পেনাল্টি নেবে কি না, সেটাও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তবে মাঠে যতটুকু সময়ই থাকুক, সেই সময়ে তার কার্যকারিতাই আসল।”

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি দেন কোচ ফিটনেস প্রসঙ্গে—“আমি একদম স্পষ্টভাবে বলতে চাই, নেইমার যদি খেলার যোগ্য হয়, তবেই সে খেলবে। অনুশীলনের পারফরম্যান্সই সবকিছু ঠিক করবে।”

তার মন্তব্যে উঠে আসে চাপ বণ্টনের প্রসঙ্গও। আনচেলোত্তির মতে, “সব প্রত্যাশার চাপ একজন খেলোয়াড়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।”

নেইমারকে ঘিরে এই সিদ্ধান্ত ব্রাজিল ফুটবলে ফিরিয়ে আনছে ২৪ বছর আগের এক পুরনো স্মৃতি।

সে সময় রোমারিয়োকে নিয়ে একই ধরনের বিতর্কে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল ব্রাজিল। এমনকি সেই বিতর্কে রাজনৈতিক মহলও জড়িয়ে পড়েছিল।

এবারও ইতিহাস যেন নতুন করে ফিরে এলো—তবে কেন্দ্রবিন্দুতে এবার নেইমার। চোট, অনিশ্চয়তা আর প্রত্যাবর্তনের লড়াই পেরিয়ে তিনি কি পারবেন বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ব্রাজিলকে জাদু দেখাতে?

সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে সময়ই। নেইমার আছেন, ব্রাজিলের স্বপ্নও আছে।