রাত ১২টার ঘটনায় পদ হারালেন চবি ছাত্রদল নেতা, তদন্ত ঈদের পর


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : মে ২৫, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ন /
রাত ১২টার ঘটনায় পদ হারালেন চবি ছাত্রদল নেতা, তদন্ত ঈদের পর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিফ রহমানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।

‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ তুলে রোববার (২৪ মে) রাতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আর এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে মধ্যরাতের এক ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্ক, গুঞ্জন ও রাজনৈতিক অস্বস্তি।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার (২৩ মে) গভীর রাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার জেএম টাওয়ার সংলগ্ন একটি বাসা থেকে বান্ধবীসহ ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ আটক হন বলে অভিযোগ ওঠে সাকিফ রহমানের বিরুদ্ধে।

এরপরই ঘটনাটি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।

তবে অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন সাকিফ রহমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনাকে ‘ভিন্নভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে।

সাকিফ দাবি করেন, তার বান্ধবী গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকাল ৬টার টিকিট কেটেছিলেন। এ কারণে কয়েকজন বন্ধু মিলে রাতে ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরির পরিকল্পনা করেন তারা।

রাতের খাবার শেষে বাসায় ফেরার সময় স্টেশন তলা এলাকায় ঝামেলার খবর পেয়ে তারা ২ নম্বর গেটের পথ বেছে নেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১২টার দিকে তিনি ব্যাগ নেওয়ার জন্য রুমে যান। তখন বান্ধবীকে নিচে একা রেখে যাওয়া নিরাপদ মনে না হওয়ায় তাকেও রুমে নিয়ে যান।

সেখানে দ্রুত গোসল করে বের হওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু এর মধ্যেই কয়েকজন লোক দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে।

সাকিফের দাবি,“আমরা কোনো আপত্তিকর অবস্থায় ছিলাম না। ঘটনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।”

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নড়েচড়ে বসে। চবি’র সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেন জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং দুজনকে ক্যাম্পাস এলাকায় নিয়ে আসেন। পরে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটির পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে ছাত্রদল।

কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, “সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে” সাকিফ রহমানকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে এখন দুই ধরনের আলোচনা স্পষ্ট। এক পক্ষ বলছে, ছাত্ররাজনীতির নেতাদের ব্যক্তিজীবনও সাংগঠনিক নৈতিকতার অংশ। ফলে এমন ঘটনায় কঠোর অবস্থান নেওয়াই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে আরেক পক্ষ প্রশ্ন তুলছে, অভিযোগ প্রমাণের আগেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা ন্যায়সংগত।

সেই সঙ্গে ‘আপত্তিকর অবস্থা’ শব্দবন্ধ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন—এটি কি বাস্তব ঘটনা, নাকি সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরির একটি বহুল ব্যবহৃত কৌশল?

বিশ্ববিদ্যালয়-রাজনীতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, নৈতিকতার সংজ্ঞা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি—এই তিনটি বিষয় প্রায়ই এক সুতোয় গাঁথা থাকে। চবির এই ঘটনাও সেই পুরোনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

বিশেষ করে দরজা ভেঙে প্রবেশ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং পরে সাংগঠনিক শাস্তি—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন কেবল একটি শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ নয়; বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সীমারেখা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে।