
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে রেললাইনের ওপর ও আশপাশজুড়ে বসেছে ঝুঁকিপূর্ণ কুরবানির পশুর হাট।
ট্রেন চলাচলরত রেলপথের দুই পাশে আইন অনুযায়ী ১০ ফুট করে মোট ২০ ফুট এলাকায় সবসময় ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও সেখানে প্রকাশ্যে চলছে গরু-ছাগল কেনাবেচা।
রেললাইনের স্লিপার, সিগন্যাল ও পয়েন্টের চাবির সঙ্গে গবাদিপশু বেঁধে রাখার ঘটনাও দেখা গেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অথচ এত বড় ঝুঁকির পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষের কার্যকর তৎপরতা চোখে পড়েনি। বরং মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে অবৈধ এই পশুর হাট বসাতে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেললাইনের হাটহাজারী রেলস্টেশন এলাকাজুড়ে কুরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছে। রেললাইনের ওপর বসেই অনেক বিক্রেতা গরু-ছাগল নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষা করছেন।
কেউ কেউ রেললাইনের ঠিক পাশে পশু বেঁধে রেখেছেন। ট্রেন আসার সংকেত মিলতেই শুরু হচ্ছে হুড়োহুড়ি। ক্রেতা-বিক্রেতারা তখন পশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য ছোটাছুটি করছেন।
এ পরিস্থিতিকে ‘মৃত্যুফাঁদ’ বলে অভিহিত করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের ভাষ্য, একটি সামান্য ভুল কিংবা আতঙ্কে ছুটোছুটি থেকেই বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
রেলওয়ে আইন অনুযায়ী, ট্রেন চলাচলের সময় কিংবা সাধারণভাবে রেললাইনের দুই পাশের ২০ ফুটের মধ্যে নির্দিষ্ট কর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষ বা গবাদিপশুর প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এই সীমার মধ্যে কাউকে পাওয়া গেলে রেলওয়ে আইনের ১০১ ধারায় গ্রেপ্তারের বিধান রয়েছে। এমনকি ওই এলাকায় গবাদিপশু পাওয়া গেলে তা আটক করে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধানও আছে।
কিন্তু বাস্তবে আইন যেন পুরোপুরি অকার্যকর। প্রকাশ্যেই চলছে পশুর বেচাকেনা, জমছে হাজারো মানুষের ভিড়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলপথে পশুর হাট বসানো যে সম্পূর্ণ অবৈধ ও বিপজ্জনক—তা সবাই জানেন। তারপরও কিছু অসাধু ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে হাটটি পরিচালিত হচ্ছে।
উৎকোচের বিনিময়ে প্রশাসনের একাংশ নীরব ভূমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার না করে অনেকটা প্রকাশ্যেই রেললাইনে পশুর হাট বসানোর কথা স্বীকার করেছেন হাটের ইজারাদার পৌরসভার চন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহিম সওদাগর।
তিনি বলেন, “পুরো বাংলাদেশেই বসাচ্ছে। তাই আমিও রেললাইনের ওপর পশুর হাট বসিয়েছি।”
যদিও হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন জানিয়েছেন, পৌরসভা থেকে রেললাইনের ওপর কোনো পশুর হাট বসানোর ইজারা দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। তারা কেন সেখানে হাট বসিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীনও বলেন, “রেললাইনে পশুর হাট বসানোর কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সচিবের কড়াকড়ি নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যখন প্রতিদিন শত শত মানুষ ও গবাদিপশু নিয়ে প্রকাশ্যে রেললাইনের ওপর বাজার বসছে, তখন এতদিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি না আসার কারণ কী?
তাঁদের আশঙ্কা, প্রশাসনিক উদাসীনতা আর দায়িত্বহীনতার সুযোগে হাটহাজারীর এই অবৈধ পশুর হাট এখন যেন এক চলমান বিপর্যয়ের অপেক্ষায় আছে। একটিমাত্র দুর্ঘটনাই কেড়ে নিতে পারে বহু প্রাণ।






















আপনার মতামত লিখুন :