ঈদের দিন ৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের আলটিমেটাম চসিকের


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : মে ২৫, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ন / ০ Views
ঈদের দিন ৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের আলটিমেটাম চসিকের

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে এবার কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে নগরজুড়ে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো নগরী পরিষ্কার করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।

মেয়র জানান, তিনি নিজেও দুপুর ২টা থেকে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে নামবেন। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই তদারকি কার্যক্রম শুরু হবে।

সভায় নগরবাসীকে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই এবং চসিকের সরবরাহ করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য জমা করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রাখার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

মেয়র বলেন, যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ ও তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও অপসারণের বিষয়টি।

মেয়র বলেন, ইতোমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।

চামড়া যেন রাস্তাঘাটে পড়ে থেকে পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টি না করে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় বক্তব্য দেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চালানো হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে ওয়ার্ডভিত্তিক অভিযান।

সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ করতে পারা তিনটি ওয়ার্ডকে পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দেন মেয়র।

তবে দ্রুততার নামে পরিচ্ছন্নতায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি।

ঈদের দিন দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

খাবারের মান নিশ্চিত করতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান মেয়র।

সভায় প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।