বিএসসির সাফল্যের নেপথ্যের মানুষ এখন বন্দরের চেয়ারম্যান দৌড়ে


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : মে ২৪, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ন /
বিএসসির সাফল্যের নেপথ্যের মানুষ এখন বন্দরের চেয়ারম্যান দৌড়ে

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জোর আলোচনা চলছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বন্দরসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেকের নাম।

বন্দরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, বর্তমান চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে।

প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, কার্যক্রম পরিচালনা এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন স্তরেও প্রশ্ন উঠেছে।

এমন বাস্তবতায় দক্ষ, সৎ ও ফলপ্রসূ নেতৃত্ব খুঁজছে সরকার। সেই বিবেচনায় সামনে এসেছে কমোডর মাহমুদুল মালেকের নাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশের বিভিন্ন খাতে অর্থনৈতিক চাপ ও স্থবিরতার মধ্যে বিএসসি গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে।

দীর্ঘদিন লোকসান, সীমাবদ্ধতা ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনার ভারে জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি কমোডর মালেকের নেতৃত্বে এখন দেশের অন্যতম লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

বিএসসি সূত্র জানায়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ২৫০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে, যা গত ৫৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

পরের অর্থবছরে সেই সাফল্য আরও বাড়িয়ে ২০২৪-২০২৫ সালে নিট মুনাফা দাঁড়ায় ৩০৬ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য এ অর্জনকে ব্যতিক্রমী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়েও আলোচনায় আসেন কমোডর মালেক। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৪৭৫ কোটি টাকা ফেরত দেন।

পরে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি আরও ২০৩ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনায় এমন উদ্যোগকে বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শুধু আর্থিক সাফল্য নয়, বহর সম্প্রসারণেও নতুন ইতিহাস গড়েছে বিএসসি। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো নিজস্ব অর্থায়নে ৬৩ হাজার ৫০০ টন ধারণক্ষমতার দুটি পণ্যবাহী জাহাজ সংগ্রহ করেছে।

পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে দুটি মাঝারি আকারের তেলবাহী জাহাজ এবং আরও একটি পণ্যবাহী জাহাজ সংগ্রহের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২৪তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্স ও ৮৯-বি ব্যাচের কর্মকর্তা কমোডর মাহমুদুল মালেক কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি যুদ্ধজাহাজের অধিনায়ক, নৌ সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক এবং সাবমেরিন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর নেতৃত্বেই বিদেশি সহায়তা ছাড়াই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবমেরিন প্রথমবারের মতো সমুদ্রে সফলভাবে পরিচালিত ও ডুব সক্ষমতা অর্জন করে।

পেশাগত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাগত যোগ্যতাতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ যুদ্ধ কলেজ, পাকিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিনি উচ্চতর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধ বিষয়ক কোর্সে প্রথম স্থান অর্জন করে “সেরা কৃতিত্বপূর্ণ স্নাতক” হিসেবে স্বীকৃতিও পান।

চট্টগ্রাম বন্দরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কমোডর মাহমুদুল মালেককে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তাঁদের ভাষ্য, কয়েক বছরের ব্যবধানে বিএসসির মতো দুর্বল ও সীমাবদ্ধতাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে বিরল উদাহরণ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনিক দক্ষতা, আর্থিক শৃঙ্খলা, পেশাগত সক্ষমতা ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে কমোডর মাহমুদুল মালেক এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছেন।

তাঁদের বিশ্বাস, দায়িত্ব পেলে চট্টগ্রাম বন্দরেও তিনি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন।