উত্তর ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ২৬৪৫


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুলাই ৪, ২০২৬, ৮:৫২ পূর্বাহ্ন /
উত্তর ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ২৬৪৫

মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চল।

স্মরণকালের ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪৫ জনে।

প্রলয়ংকরী এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ হাজার ৬৬৬ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রাণের সন্ধানে লড়ছেন হাজারো উদ্ধারকর্মী।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রলয় কাটিয়ে এখনো আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকারীরা। ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬২ জনকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তায় জোরদার করা হয়েছে মানবিক কার্যক্রম। এ পর্যন্ত প্রায় ৮৬ হাজার ১১৭টি পরিবারকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও আকাশচুম্বী। জোড়া ভূমিকম্পের ধাক্কায় পুরো অঞ্চলে অন্তত ৮৮৫টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮৯টি ভবন সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।

ভেনেজুয়েলা সরকারের তথ্যমতে, দুর্গত এলাকায় এই মুহূর্তে ইতিহাসের অন্যতম বড় উদ্ধার অভিযান চলছে।

কারাকাস সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ত্রাণ কার্যক্রমে প্রায় ৩০ হাজার স্থানীয় কর্মী মোতায়েন করেছে।

তাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গত ২৪ জুন উত্তর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে ৭.৫ ও ৭.২ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প।

মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা এই জোড়া কম্পনেই মূলত মাটির সঙ্গে মিশে যায় শত শত বহুতল ভবন।

মূল ভূমিকম্পের পর আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয়দের মাঝে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৪ জুনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে মোট ৮৯০টি আফটারশক (পরবর্তী মৃদু ও মাঝারি কম্পন) রেকর্ড করা হয়েছে।

ফলে বারবার কেঁপে উঠছে মাটি, যা উদ্ধারকাজেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল সম্পর্কে জানা গেছে, ৭.৫ মাত্রার মূল ভূমিকম্পটি ইয়ারাকুই রাজ্যের ইয়ুমারে শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং ৭.২ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি সান ফিলিপের ২৩.৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আঘাত হেনেছিল।

আনাদলু এজেন্সির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাবার পানি, ওষুধ ও অস্থায়ী শিবিরের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপের সামনে অপেক্ষারত মানুষের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে উত্তর ভেনেজুয়েলার বাতাস।

বিশ্বনেতারা এই মানবিক বিপর্যয়ে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।