আয়ারির জোড়া দূরপাল্লার গোল, তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে গ্রুপশীর্ষে সুইডেন


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুন ১৫, ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন /
আয়ারির জোড়া দূরপাল্লার গোল, তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে গ্রুপশীর্ষে সুইডেন

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঝড় তুলেছিল সুইডেন। সেই ঝড়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি তিউনিসিয়া।

ইউসেফ আয়ারির জোড়া দূরপাল্লার গোল, আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর ইয়োকেরেসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং ম্যাটিয়াস সভানবার্গের রেকর্ডগড়া গোলের সুবাদে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সুইডিশরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণের ধার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে সুইডেন।

এরই ধারাবাহিকতায় মিডফিল্ডার ইউসেফ আয়ারি বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করে দলের গোল উৎসবের সূচনা করেন। তার সেই গোলেই আত্মবিশ্বাস পায় সুইডিশরা।

সুইডেনের আক্রমণভাগে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়ান আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর ইয়োকেরেস। তাদের গতিময় ও সরাসরি আক্রমণে বারবার বিপাকে পড়ে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগ।

ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেন ইসাক। অন্যদিকে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ইয়োকেরেস।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটি গোল শোধ করে তিউনিসিয়া। তবে সেটিই ছিল তাদের সাময়িক স্বস্তি।

বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও সুইডেন বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগই দেয়নি।

ম্যাচের শেষদিকে ঘটে নাটকীয় এক মুহূর্ত। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ১৮ সেকেন্ডের মাথায় গোল করেন ম্যাটিয়াস সভানবার্গ।

প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার মাধ্যমে গোলের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দ্বিতীয় দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন সভানবার্গ।

এর আগে ২০০২ সালে উরুগুয়ের রিচার্ড মোরালেস ১৬ সেকেন্ডে গোল করে এই রেকর্ড স্থাপন করেছিলেন।

তবে শেষ হাসিটা ছিল আয়ারির। যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে থেকে আরও একটি দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি।

তার অসাধারণ ফিনিশিংয়ে ৫-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় সুইডেনের।

এই দাপুটে জয়ের ফলে গ্রুপের শীর্ষস্থানেও উঠে এসেছে সুইডিশরা। অন্যদিকে সেট-পিস থেকে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে না পারায় বড় ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তিউনিসিয়াকে।

সুইডেনের শক্তিমত্তা, আক্রমণভাগের ধার এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্ষুধার্ত ফুটবল—সব মিলিয়ে এই ম্যাচটি হয়ে থাকল তাদের বিশ্বকাপ অভিযানের অন্যতম স্মরণীয় প্রদর্শনী।