টেকনাফের সাবেক চেয়ারম্যান জাফরের ‘অবৈধ সম্পদ’ মামলায় ৭ বছরের সাজা


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ন /
টেকনাফের সাবেক চেয়ারম্যান জাফরের ‘অবৈধ সম্পদ’ মামলায় ৭ বছরের সাজা

অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আহমদকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে আট কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি জাফর আহমদ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত জাফর আহমদ টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সহ-সভাপতি।

তিনি সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির অনুসারী হিসেবেও পরিচিত।

২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সালের মে মাস পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল জাফর আহমদের বিরুদ্ধে নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন দুদক চট্টগ্রামের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন।

মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, জনপ্রতিনিধির ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাফর আহমদ ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৯ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন।

তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বলে তথ্য পায় দুদক।

তদন্তে আরও উঠে আসে, পারিবারিক ও অন্যান্য খরচ বাবদ জাফর আহমদ ব্যয় করেছেন ৫৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। বিপরীতে তার মোট গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

ফলে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এসব সম্পদের মধ্যে টেকনাফে থাকা জমি ও ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থও রয়েছে।

চলতি বছরের ৫ মে জাফর আহমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন জানান, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত জাফর আহমদকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও আট কোটি টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে আদালত অতিরিক্ত শাস্তিরও আদেশ দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর আদালতের নির্দেশে সাবেক এই উপজেলা চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানো হয়।