এআই দিয়ে ভিডিও বানিয়ে আয় করা আর সহজ নয়


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন /
এআই দিয়ে ভিডিও বানিয়ে আয় করা আর সহজ নয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করে নিয়মিত নিজেদের চ্যানেলে প্রকাশ করছেন অনেকে। এসব ভিডিও থেকে আয়ও করছেন কেউ কেউ।

তবে এআইয়ের সাহায্যে তৈরি সব ধরনের ভিডিও থেকে আর আগের মতো আয় করা যাবে না।

গণহারে তৈরি নিম্নমানের এআই কনটেন্টের বিস্তার ঠেকাতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউটিউব।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘ইন-অথেনটিক’ হিসেবে বিবেচিত তিন ধরনের ভিডিও ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (ওয়াইপিপি) থেকে আর আয়ের সুযোগ পাবে না।

এর মাধ্যমে গণহারে তৈরি ও নিম্নমানের এআই কনটেন্ট নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি মৌলিক ও মানসম্মত ভিডিও নির্মাণে উৎসাহ দেওয়া হবে।

এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট নিয়ে ইউটিউবের নীতিমালা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। গত বছরই প্রতিষ্ঠানটি গণহারে (ম্যাস প্রডিউস) তৈরি ও পুনরাবৃত্তিমূলক (রিপিটেটিভ) ভিডিও থেকে আয়ের সুযোগ সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছিল।

এবার হালনাগাদ নির্দেশিকায় ‘ইন–অথেনটিক কনটেন্ট’কে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে ইউটিউব।

নির্দেশিকার তথ্য অনুযায়ী, একই ধরনের বা পুনরাবৃত্তিমূলক ভিডিও, দর্শকদের আবেগকে প্রভাবিত বা অস্বস্তিতে ফেলে এমন ভিডিও এবং স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, অর্থব্যবস্থা বা আইনি বিষয়ে মানবসদৃশ চরিত্র ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও থেকে ইউটিউবের মাধ্যমে কোনো অর্থ আয় করা যাবে না।

তবে ইউটিউবের এই সিদ্ধান্তের অর্থ এ নয় যে, এআই দিয়ে তৈরি সব ভিডিওর আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বরং নিম্নমানের, পুনরাবৃত্তিমূলক ও দর্শককে বিভ্রান্ত বা অস্বস্তিতে ফেলার মতো কনটেন্টের বিরুদ্ধেই মূলত কঠোর হচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি।

অর্থাৎ এআই ব্যবহার করে তৈরি উন্নতমানের ও মৌলিক কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আয়ের সুযোগ আগের মতোই উন্মুক্ত থাকছে।

ইউটিউবের তথ্যমতে, ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম নির্মাতাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। বিজ্ঞাপন এবং গ্রাহকভিত্তিক বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে এই কর্মসূচি থেকে আয় করেন তাঁরা।

ফলে এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের ভিডিওতে প্ল্যাটফর্ম ভরে গেলে শুধু দর্শকদের অভিজ্ঞতাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, ইউটিউবের ব্যবসায়িক স্বার্থেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

টেলিভিশন ও বিভিন্ন ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বিজ্ঞাপন আয়ের প্রতিযোগিতার মধ্যেও তাই কনটেন্টের মান ধরে রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইউটিউব।

প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, এমন একটি কনটেন্ট পরিবেশ নিশ্চিত করা যেখানে বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের ও পুনরাবৃত্তিমূলক ভিডিওর বদলে দর্শকের জন্য অর্থবহ, মৌলিক ও মানসম্মত ভিডিও বেশি গুরুত্ব পাবে।

ইউটিউব জানিয়েছে, কোনো চ্যানেলে এই তিন ধরনের কনটেন্টের যেকোনো একটি অতিরিক্ত পরিমাণে থাকলে সেই চ্যানেলটি ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের মাধ্যমে আর আয় করতে পারবে না।

ফলে নিয়মিত এআই-নির্ভর ভিডিও তৈরি করে আয় করা নির্মাতাদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইউটিউবের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি বিভাগের প্রধান ম্যাট হ্যালপ্রিন জানিয়েছেন, নীতিমালার এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো আয়ের জন্য তৈরি নিম্নমানের ভিডিওর বিস্তার কমানো।

একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি উন্নতমানের কনটেন্টকে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে স্বাগত জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অর্থাৎ, ইউটিউবের নতুন নীতিতে এআই প্রযুক্তি নিষিদ্ধ হচ্ছে না, বরং প্রযুক্তিটির অপব্যবহার করে গণহারে নিম্নমানের কনটেন্ট তৈরির প্রবণতাকেই নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

ফলে ভবিষ্যতে এআইনির্ভর ভিডিও নির্মাতাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে-শুধু দ্রুত ও বেশি ভিডিও তৈরি নয়, বরং দর্শকের কাছে সত্যিকার অর্থে মূল্যবান ও মৌলিক কনটেন্ট উপস্থাপন করা। সূত্র: টেক ক্র্যাঞ্চ