ইলিশ ধরতে গিয়ে সাগরে ‘অচেনা’ বস্তু, সন্দ্বীপে তোলপাড় কৌতূহল


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ন /
ইলিশ ধরতে গিয়ে সাগরে ‘অচেনা’ বস্তু, সন্দ্বীপে তোলপাড় কৌতূহল

দেখতে অনেকটা তেলবাহী ট্রেনের ট্যাংকের মতো। লাল রঙের বিশাল ধাতব কাঠামোটি ভাসছিল বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেলে।

ইলিশ ধরতে সাগরে যাওয়া কয়েকজন জেলের চোখে হঠাৎ পড়ে অচেনা বস্তুটি। কাছে গিয়ে তারাও বুঝতে পারেননি, এটি আসলে কী।

পরে দুটি বোটের সঙ্গে মোটা রশি দিয়ে বেঁধে টেনে সেটিকে নিয়ে আসা হয় তীরে।

এরপর থেকেই ধাতব কাঠামোটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে কৌতূহল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় বাড়ছে, বাজার ও চায়ের দোকানের আড্ডাতেও চলছে নানা আলোচনা।

কারও ধারণা, এটি কোনো জাহাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভেসে আসা ট্যাংকারের অংশ। আবার কেউ কেউ বলছেন, এর ভেতরে হয়তো মালামালও থাকতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের বটগাছতলা ইলিশের ঘাটে ধাতব কাঠামোটি নিয়ে আসেন জেলেরা।

তাঁদের ধারণা, কাঠামোটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ ফুট এবং ব্যাস ১০ ফুটের মতো।

ধাতব কাঠামোটি উদ্ধারকারী জেলেদের একজন বলেন, ‘মোটা রশি দিয়ে বোটের সঙ্গে বেঁধে সেটি টানতে শুরু করি।

বিশালাকার বস্তুটি একটি বোটের পক্ষে টানা সম্ভব হচ্ছিল না। পরে আরেকটি বোটের সাহায্যে সেটিকে ঘাটে নিয়ে এসেছি।’

জেলেরা জানান, গতকাল দিনের জোয়ারে তাঁরা সন্দ্বীপ চ্যানেলে ইলিশ মাছ ধরতে যান। সাগরে জাল ছড়ানোর সময় তাঁদের একজনের চোখে পড়ে কিছুটা দূরে লাল রঙের বড় একটি বস্তু স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসছে।

প্রথমে দূর থেকে বস্তুটি কী, তা বুঝতে পারেননি তাঁরা। তবে ধীরে ধীরে কাছে যেতেই দেখা যায়, সেটি বিশালাকার একটি ধাতব কাঠামো।

কাঠামোটি ঘাটে নিয়ে আসা জেলেদের একজন বলেন, ‘আমরা তখন বোট থেকে সাগরে জাল ছাড়ছিলাম। দূর থেকে বুঝতে পারছিলাম না জিনিসটা কী। কাছে গিয়ে দেখি, পুরোনো একটা তেলের ট্যাংকারের মতো বস্তু।

পরে মোটা রশি দিয়ে বোটের সঙ্গে বেঁধে সেটি টানতে শুরু করি। বিশালাকার বস্তুটি একটি বোটের পক্ষে টানা সম্ভব হচ্ছিল না। পরে আরেকটি বোটের সাহায্যে সেটিকে ঘাটে নিয়ে এসেছি।’

একই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আরেক জেলে বলেন, ‘সাগরে জিনিসটি ভাসতে দেখে কৌতূহল থেকে কাছে যাই। পরে মনে হয়েছে, এটি বড় কোনো পুরোনো জাহাজের অংশ হবে। তারপর সবাই মিলে এটিকে তীরে নিয়ে এসেছি।’

ধাতব কাঠামোটি ঘাটে আনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দেয় ব্যাপক কৌতূহল। অনেকে রাতেই সেটি দেখতে ঘাটে ছুটে যান।

তবে রাতের অন্ধকারে ভালোভাবে দেখতে না পারায় বুধবার সকাল থেকে সেখানে মানুষের ভিড় আরও বাড়তে থাকে।

স্থানীয় বাজার ও চায়ের দোকানের আড্ডাতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে অচেনা এই ধাতব কাঠামো। এটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় নানা জল্পনাকল্পনা।

কেউ দাবি করেন, এটি কোনো জাহাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভেসে আসা ট্যাংকারের অংশ। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, কাঠামোটির ভেতরে মালামাল থাকতে পারে।

বুধবার সকাল সাতটায় সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাটের কাছেই একটি খালে খুঁটির সঙ্গে ধাতব কাঠামোটির দুই পাশ দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

দেখতে অনেকটা তেলবাহী ট্রেনের ট্যাংকারের মতো কাঠামোটিতে দীর্ঘদিন সমুদ্রে ভেসে থাকার চিহ্নও স্পষ্ট।

কোথাও রং উঠে গেছে, কোথাও পড়েছে মরিচা। এক প্রান্তের বর্ধিত একটি অংশে রয়েছে মোটা লোহার কড়া, যা দেখতে অনেকটা হুকের মতো।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরায় দীর্ঘদিন জাহাজ কাটার কাজ করেন এমন এক শ্রমিক ধাতব কাঠামোটির ছবি দেখে বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, এটি সমুদ্রগামী জাহাজের বিশাল আকৃতির ক্রেনে ব্যবহৃত একটি স্তম্ভ। এ ধরনের স্তম্ভ জাহাজের ক্রেনের মূল কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।’

তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক নয়ন শীল ধাতব কাঠামোটির ছবি দেখে ভিন্ন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ধারণা, এটি কোনো ড্রেজারের কাঠামো হতে পারে।

নয়ন শীল বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখি, এ ধরনের কোনো কাঠামো ভেসে গেছে কি না।’

সাগর থেকে কাঠামোটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা জেলেরা জানিয়েছেন, এর মালিক কে বা এটি কোথা থেকে ভেসে এসেছে, সে বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। তবে প্রকৃত মালিক যোগাযোগ করলে তাঁরা কাঠামোটি ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত।

উদ্ধারকারী যিশু জলদাস বলেন, ‘এটা কার, কোথা থেকে এসেছে, আমরা কিছুই জানি না। তবে প্রকৃত মালিক যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, আমরা অবশ্যই ফিরিয়ে দেব।’

একই কথা বলেন কৃপা জলদাসও। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা শুধু সাগরে ভাসতে দেখে তীরে এনেছি। মালিক এলে বুঝিয়ে দিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার বলেন, সাগরে ভেসে আসা একটি খালি ও পুরোনো ধাতব কাঠামো সন্তোষপুরের ঘাটে আনার খবর তাঁরা পেয়েছেন।

এটির মালিকানা দাবি করে কেউ যোগাযোগ করলে সেটি ফিরিয়ে দিতে পুলিশ উদ্যোগী হবে।