
চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার বহুল আলোচিত বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আশফাক কবির সাজিদ হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি ইশতিয়াক (২২)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ইশতিয়াক নগরীর চকবাজার থানাধীন ডিসি রোড (শিশু কবরস্থান) এলাকার ইদ্রিসের ছেলে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব সূত্র জানায়, নিহত আশফাক কবির সাজিদ কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার দাতিনাথালীপাড়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে।
তিনি চট্টগ্রামের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ বিকেলে সাজিদ ও তাঁর বন্ধু ফারদিন হাসান চকবাজারের বৌ-বাজার রাস্তার মুখে একটি টং দোকানের সামনে বসে কথা বলছিলেন।
এ সময় আইমন, অনিক, রানা প্রকাশ মাইকেল রানা, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ এবং মিসকাতুল কায়েসসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জন দুর্বৃত্ত ধারালো চাকুর ভয় দেখিয়ে সাজিদকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে বিকেল আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটের দিকে সাজিদ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে ডিসি রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের ৮ তলায় আশ্রয় নেন এবং ভবনের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন। তবে দুর্বৃত্তরা তাঁর পিছু ধাওয়া করে ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে তারা ভবনের দারোয়ানকে ‘ভিতরে চোর প্রবেশ করেছে’ বলে মিথ্যা তথ্য দিলে দারোয়ান প্রধান ফটক খুলে দেন।
এরপর দুর্বৃত্তরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে ওপরের তলায় গিয়ে সাজিদকে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে নির্মাণাধীন ভবনের ৮ তলার লিফটের ফাঁকা স্থান দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে চকবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় সাজিদকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হলে দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নিহতের বাবা বাদী হয়ে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই মামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে র্যাব-৭।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন মামলার তদন্তে প্রাপ্ত সন্দিগ্ধ পলাতক আসামি ইশতিয়াক দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার একটি এলাকায় আত্মগোপন করে আছেন।
এ তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৬ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে র্যাব-৭-এর একটি দল দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন শিলক মিনাগাজির টিলা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ইশতিয়াককে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাকে চকবাজার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একই সঙ্গে মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।






















আপনার মতামত লিখুন :