দশজনের ইরাককে গুঁড়িয়ে দিল সেনেগাল, উজ্জ্বল হলো পরের পর্বের সম্ভাবনা


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুন ২৭, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ন /
দশজনের ইরাককে গুঁড়িয়ে দিল সেনেগাল, উজ্জ্বল হলো পরের পর্বের সম্ভাবনা

টানা দুই পরাজয়ের পর দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল সেনেগালের। নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে ইরাকের বিপক্ষে জয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।

সেই চাপের ম্যাচেই দুর্দান্ত এক প্রদর্শনী উপহার দিল সাদিও মানের দল। ইরাককে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল বাড়তি উত্তেজনা। কারণ দুই দলের জন্যই এটি ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। মাত্র চতুর্থ মিনিটেই আক্রমণের ঝাঁজ দেখায় সেনেগাল।

ইদ্রিসা গানার শক্তিশালী শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে কর্নারে পরিণত হয়। সেই কর্নার থেকেই হাবিব দিয়ারার নিখুঁত হেডে এগিয়ে যায় সেনেগাল।

গোল হজমের ধাক্কা সামলানোর আগেই আরও বড় বিপদে পড়ে ইরাক। ১৩তম মিনিটে সাদিও মানেকে পেছন থেকে টেনে ধরেন রেবিন সুলাকা।

প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআরের সহায়তায় সিদ্ধান্ত বদলান রেফারি। ফাউলের গুরুত্ব বিবেচনায় সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় সুলাকাকে।

ফলে ম্যাচের অধিকাংশ সময় দশজন নিয়েই খেলতে হয় ইরাককে।

একজন কম নিয়ে খেলতে নামার পর থেকেই চাপে পড়ে যায় মধ্যপ্রাচ্যের দলটি। যদিও ১৯তম মিনিটে আলি আল হামাদিকে ফাউল করায় সেনেগালের ডিফেন্ডার আব্দুল্লাইয়ে সেক হলুদ কার্ড দেখেন, তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনও ছিল আফ্রিকানদের হাতেই।

প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা সেনেগাল বিরতির পর যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। ৫৪তম মিনিটে ইসমাইলা সার গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। মাত্র পাঁচ মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে দৃষ্টিনন্দন এক শটে জাল খুঁজে নেন পেপে।

ইরাকের প্রতিরোধ তখন কার্যত ভেঙে পড়েছে। ৭১তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান ৪-০ করেন পেপে।

এরপরও আক্রমণের ধার কমায়নি সেনেগাল। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে লিমান এনদিয়ে পঞ্চম গোলটি করলে ইরাকের পরাজয়ের ব্যবধান আরও বড় হয়।

শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছিল ৫-০। এই বড় জয়ে সেনেগালের গোল ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্লাস ২, যা পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিন ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট নিয়ে আই গ্রুপের তৃতীয় স্থানে রয়েছে সাদিও মানের দল। এখন তাদের চোখ থাকবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের দিকে।

আটটি সেরা তৃতীয় দলের একটি হিসেবে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল করেছে এই দাপুটে জয়।

একসময় বিদায়ের শঙ্কায় থাকা সেনেগাল এখন অপেক্ষায়—অন্য ম্যাচগুলোর ফল কি তাদের জন্য খুলে দেবে শেষ ষোলোর দরজা?