দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে উড়ে গেল নরওয়ে, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুন ২৭, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ন /
দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে উড়ে গেল নরওয়ে, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

নকআউট পর্বের আগে নিজেদের সামর্থ্যের সবচেয়ে জোরালো বার্তাটাই হয়তো দিয়ে রাখল ফ্রান্স। বোস্টনের ফক্সবরো স্টেডিয়ামে নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল।

আর এই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন উসমান দেম্বেলে, যিনি প্রথমার্ধেই দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারণ করে দেন।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই কিলিয়ান এমবাপ্পের শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। সেটি ছিল আসন্ন ঝড়ের আগাম ইঙ্গিত।

মাত্র চার মিনিট পরই সেই ঝড়ের প্রথম আঘাত। ডান প্রান্তে বল পেয়ে দুরন্ত গতিতে বক্সে ঢুকে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে নিখুঁত শটে নরওয়ের জালে বল জড়ান দেম্বেলে। শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ফরাসিরা।

নরওয়ে অবশ্য দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। জর্গেন স্ট্রান্ড লারসেন একটি ভালো সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি।

কিন্তু আক্রমণে যতই এগিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা, ততই তাদের রক্ষণে জায়গা খুঁজে পেয়েছে ফ্রান্স।

২০ মিনিটে আবারও আলো ছড়ান দেম্বেলে। ডান দিক থেকে ভেতরে কেটে এসে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ বাঁকানো শটে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। গোলটি ছিল নৈপুণ্য আর আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য প্রদর্শনী।

তবে ম্যাচ তখনও পুরোপুরি একপেশে হয়ে যায়নি। মাত্র এক মিনিট পর থেলো আসগার্ড দুর্দান্ত ব্যক্তিগত দক্ষতায় দাইয়ো উপামেকানোকে কাটিয়ে গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ঁকে পরাস্ত করেন। ব্যবধান ২-১ হওয়ায় ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ফিরে আসে।

কিন্তু সেই উত্তেজনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩২ মিনিটে মাইকেল ওলিসের চমৎকার পাস ধরে বক্সের ভেতর থেকে নিচু শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দেম্বেলে।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই নরওয়ের স্বপ্ন অনেকটাই ভেঙে দেন প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের এই ফরোয়ার্ড।

চলতি বিশ্বকাপে এটি তৃতীয় হ্যাটট্রিক। এর আগে কানাডার জোনাথন ডেভিড এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এই কীর্তি গড়েছিলেন।

বিরতির পর ম্যাচে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। ৪৮ মিনিটে অস্কার ববকে বক্সে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় তারা।

কিন্তু স্ট্রান্ড লারসেনের দুর্বল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন মেনিয়ঁ। সেই মুহূর্তেই কার্যত ম্যাচের শেষ আশাটুকুও হারিয়ে ফেলে নরওয়ে।

এরপর ফ্রান্স ম্যাচের গতি ও ছন্দ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখে। কোচ দিদিয়ের দেশমে দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসেসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে তুলে বিশ্রাম দেন। তবুও আক্রমণের ধার কমেনি।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আসে শেষ আঘাত। বদলি হিসেবে নামা ব্র্যাডলি বারকোলার দারুণ ক্রস থেকে নিখুঁত ফিনিশে গোল করেন দেজিরে দোয়ে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল, আর বিশ্বকাপে প্রথম। পিএসজির দুই সতীর্থের সমন্বয়ে ফ্রান্সের জয় পায় আরও বড় ব্যবধান।

নরওয়ের জন্য হতাশার রাতে আরলিং হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডকে মাঠে নামানো হয়নি। শুরুর একাদশে প্রায় ১০টি পরিবর্তন এনে পরীক্ষামূলক দল নামালেও সেই কৌশল সফল হয়নি।

তবে পরাজয়ের মধ্যেও স্বস্তি আছে নরওয়ের। গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে তারাও জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বে।

এই ম্যাচে একটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানও যোগ হয়েছে বিশ্বকাপের ইতিহাসে। গ্রুপ পর্বে একই দলের দুই খেলোয়াড়ের চার বা তার বেশি গোল করার ঘটনা সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৭৪ সালে, যখন পোল্যান্ডের আন্দ্রেজ শারমাখ ও গ্রেজগোরজ লাতো সেই কীর্তি গড়েছিলেন।

এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন উসমান দেম্বেলে ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

নকআউট পর্বের আগে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নয়; বরং আক্রমণভাগের দুর্দান্ত ছন্দে থাকা।

বোস্টনের রাত শেষ হয়েছে এক স্পষ্ট বার্তা দিয়ে—শিরোপার লড়াইয়ে ফরাসিরা নিজেদের দাবি আরও জোরালোভাবেই জানিয়ে রাখল।