
বিশ্বকাপের মঞ্চে বহু স্মরণীয় রাত উপহার দিয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই রাতটি হয়তো আলাদা করে জায়গা করে নেবে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের হৃদয়ে।
কারণ, এক হ্যাটট্রিকেই নিজের নাম তুলেছেন একাধিক রেকর্ডের পাতায়, আর তার অনবদ্য পারফরম্যান্সে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য প্রত্যাশামতো ছিল না। পঞ্চম মিনিটেই দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়েছিলেন মেসি।
কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর একই ভাগ্য বরণ করতে হয় আলজেরিয়াকেও। অফসাইডের কারণে তাদের সম্ভাব্য গোলটিও বাতিল হয়।
এরপর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ১৭তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির দুর্দান্ত শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে জালে আশ্রয় নেয়। সেই গোলেই এগিয়ে যায় দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
তবে বিরতির পর আবারও সামনে আসেন মেসি। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে রিবাউন্ড থেকে পাওয়া বল সহজেই জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন তিনি।
তখনও শেষ হয়নি ‘ক্ষুদে জাদুকরের’ গল্প। ৭৬তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে আরেকটি অসাধারণ শটে আলজেরিয়ার জাল কাঁপিয়ে পূর্ণ করেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬-তে, যা তাকে নিয়ে যায় আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের শীর্ষস্থানে। মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে যৌথভাবে এই রেকর্ডের মালিক এখন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
মজার বিষয় হলো, ২০০৬ সালের ঠিক এই দিনেই বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের দেখা পেয়েছিলেন মেসি।
দুই দশক পর একই দিনে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলস্কোরারের মর্যাদা অর্জন করলেন—যা তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে যোগ করল নতুন এক গৌরবগাথা।
৭৮তম মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। এরপর কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশলে ম্যাচ শেষ করে আর্জেন্টিনা। আর কোনো গোল না হলেও ৩-০ ব্যবধানের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আর্জেন্টিনা পেল বড় জয়, আর মেসি পেলেন ইতিহাসের নতুন মুকুট। শিরোপার পথে এটি নিঃসন্দেহে এক শক্তিশালী বার্তা।






















আপনার মতামত লিখুন :