
চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ও রহস্য তৈরি হয়েছে।
নিহতের পরিবার এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সোমবার (১১ মে) রাতে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে পুলিশ।
নিহত কাউসার আহমেদ (২৭) নগরীর পশ্চিম ফিরোজশাহ এলাকার বাসিন্দা এবং বিএসআরএম কারখানায় নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটির কিছু সাবেক নেতাকর্মী।
তবে এ বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের নাম আবু কাউসার হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য তাদের কাছে নেই।
পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্ত ও পরিবারের বক্তব্যে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তি ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার পর থেকে বিষয়টি ভিন্ন মোড় নেয়।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতা দাবি করেন, নিহত কাউসার আহমেদ তাদের সংগঠনের আকবর শাহ থানার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
এ বিষয়ে ওসি নুরুল আবছার আরও বলেন, “সব দিকই আমরা খতিয়ে দেখছি। পরিবারের বক্তব্য ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।”
পাহাড়তলী থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রুহুল আমিন লাবু জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ফ্লাইওভারের ওপর ওই যুবক কীভাবে পৌঁছালেন এবং এর পেছনে কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না—তা যাচাই করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
আপাতত ঘটনাটি ঘিরে হত্যা না আত্মহত্যা—এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে নগরজুড়ে।






















আপনার মতামত লিখুন :