পুরোনো এনআইডি আর চলবে না, নতুন সিদ্ধান্তের পথে নির্বাচন কমিশন


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুন ২৭, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ন / ০ Views
পুরোনো এনআইডি আর চলবে না, নতুন সিদ্ধান্তের পথে নির্বাচন কমিশন

দেশের নাগরিক পরিচয় ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে নবায়নের বিধান কার্যকর করা হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে কমিশনের ভেতরে আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ১৫ বছর একটি দীর্ঘ সময়। এই সময়ের মধ্যে একজন মানুষের শারীরিক গঠন, মুখমণ্ডল এবং পরিচিতিমূলক বৈশিষ্ট্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে চেহারায় পরিবর্তন আনেন, আবার কেউ সার্জারির মাধ্যমে জেন্ডার পরিবর্তন করেন।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আঙুলের ছাপের মানও কমে যেতে পারে। এসব কারণে ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়।

এ প্রেক্ষাপটে নাগরিকদের পরিচয় তথ্য আরও নির্ভুল ও হালনাগাদ রাখতে এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০-এর ধারা ৭(১)-এ বলা হয়েছে, এই আইনের অধীনে প্রদত্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ হবে প্রদানের তারিখ থেকে ১৫ বছর।

একই আইনের ধারা ২ অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফি পরিশোধের মাধ্যমে নবায়নের জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করতে হবে।

অন্যদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র বিধিমালার ৫ নম্বর বিধিতে উল্লেখ রয়েছে, এনআইডি নবায়নের জন্য প্রত্যেক নাগরিক বা তার আইনানুগ অভিভাবককে ফরম-৫ অনুযায়ী সরাসরি অথবা কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

সরাসরি আবেদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে রসিদের কপি সংযুক্ত করে আবেদনপত্র ‘জরুরি’ অথবা ‘সাধারণ’ হিসেবে জমা দিতে হবে।

অনলাইন আবেদনেও একইভাবে ফি পরিশোধের পর রসিদের স্ক্যান কপি সংযুক্ত করতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, ‘জরুরি’ আবেদন নির্বাচন কমিশনে এবং ‘সাধারণ’ আবেদন স্থানীয় কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।

আবেদন গ্রহণের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদনপত্রের অংশ ‘ক’-তে স্বাক্ষর করে আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবকের কাছে ফেরত দেবেন। অনলাইনের ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর বা ই-মেইলে সেই অংশ পাঠানো হবে।

বর্তমান বিধিমালায় জরুরি আবেদনের নিষ্পত্তির সময়সীমা সাত দিন এবং সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

জরুরি নবায়ন আবেদনের জন্য ফি ১৫০ টাকা এবং সাধারণ আবেদনের জন্য ১০০ টাকা।

তবে বাস্তবে অধিকাংশ মানুষ এনআইডি হারিয়ে গেলে, নষ্ট হয়ে গেলে কিংবা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লে নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি তুলনামূলক বেশি।

প্রথমবার পুনরায় কার্ডের আবেদন করলে সাধারণ সেবার জন্য ২০০ টাকা এবং জরুরি সেবার জন্য ৩০০ টাকা দিতে হয়।

দ্বিতীয়বার আবেদনের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৩০০ ও ৫০০ টাকা এবং তৃতীয়বার বা পরবর্তী যেকোনো আবেদনের জন্য সাধারণ সেবায় ৫০০ টাকা ও জরুরি সেবায় ১ হাজার টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে।

এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “এটা হচ্ছেই। কেউ চাইলে যখন-তখন নবায়ন করতে পারেন; আবেদন করে নতুন এনআইডি নিচ্ছেন হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে।”

তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এনআইডি মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশা বলেন, “এখনো বিষয়টি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। দেখা যাক কী হয়।”

নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের কোটি কোটি নাগরিককে নির্দিষ্ট সময় পর নিজেদের পরিচয় তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।

এতে নাগরিক পরিচয় যাচাই আরও নির্ভুল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয় ব্যবস্থার পথও আরও সুগম হতে পারে।