ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অসংখ্য মানুষ, ভেনিজুয়েলায় মৃত ৯২০


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুন ২৭, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ন /
ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অসংখ্য মানুষ, ভেনিজুয়েলায় মৃত ৯২০

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের কয়েক দিন পরও থামছে না মৃত্যুর সংখ্যা। ধসে পড়া ভবনের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে এই বিপর্যয়।

গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) ভেনিজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ সরকারিভাবে নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেন।

তিনি দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই। এর আগে ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছিলেন, ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা রাজ্য। সেখানে ধ্বংসস্তূপের স্তূপের পর স্তূপ পেরিয়ে উদ্ধারকর্মীরা এখনো জীবিত মানুষের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যে সেখানে পৌঁছাতে শুরু করেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার পাশাপাশি দুর্গত মানুষের মধ্যে খাবার ও জরুরি পানি বিতরণ করছে।

তবে উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের তুলনায় উদ্ধার অভিযান এগোচ্ছে ধীরগতিতে।

ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনাও কমে আসছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধ্বংসস্তূপের যে ব্যাপকতা দেখা যাচ্ছে, তাতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, এই জোড়া ভূমিকম্পে শেষ পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

শুধু প্রাণহানিই নয়, দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে কোটি মানুষের জীবনে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলছে, ভেনিজুয়েলার প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর মধ্যে রাজধানী কারাকাসের বাসিন্দাই প্রায় ২০ লাখ।

এদিকে ভূমিকম্পের পর থেমে নেই লঘু ভূকম্পন বা আফটারশক। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লয়েস পেস বলেন, বারবার আফটারশক অনুভূত হওয়ায় মানুষ এখনো নিজেদের ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছে।

নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটাচ্ছে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় ভেনিজুয়েলায় পরপর ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। মুহূর্তেই বহু ভবন, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধসে পড়ে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সারা দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

ভূমিকম্পের প্রভাবে রাজধানী কারাকাসের প্রধান বিমানবন্দর ‘সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ফলে উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণ সরবরাহ এবং স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আটকে থাকা মানুষের ভাগ্য অনিশ্চিত। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান।

আর পুরো ভেনিজুয়েলা অপেক্ষা করছে—আরও কত প্রাণহানির খবর সামনে আসে, আর কতজনকে জীবিত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় সেই আশা নিয়ে।