
দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সকল ধর্মের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে চট্টগ্রামে আয়োজিত এক আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনে।
শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে “পরিবর্তনশীল বিশ্বে ধর্মসাম্যের প্রয়োজনীয়তা ও ধর্মগ্রন্থসমূহে এর দিক নির্দেশনা” শীর্ষক এই সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট ও মাইজভাণ্ডারী একাডেমি।
মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকা’র প্রতিষ্ঠাতা গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর জন্ম দ্বিশতবার্ষিকী ও উরস শরিফ উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এমপি। তিনি বলেন, সকল ধর্মের মূল শিক্ষা দেশপ্রেম, শান্তি ও মানবকল্যাণ। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বজায় রাখার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার ও মানবিক সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মিলনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, পটিয়ার তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, ফাদার রুপক আইজেক রোজারিও এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শশাঙ্ক বরণ রায়।
আলোচনায় অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, বিশ্ব অস্থিরতার মূল কারণ সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িকতা। এসব দূর করে সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ বলেন, ধর্মের লক্ষ্য ভিন্ন হলেও মানবজাতির গন্তব্য এক ও অভিন্ন।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন বলেন, প্রায় সব ধর্মগ্রন্থই ন্যায়, সততা, দয়া ও মানবিকতার কথা বলে, যা আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়। পাশাপাশি হামদ, গীতাপাঠ, মাইজভাণ্ডারি সংগীতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের সম্মিলন ধর্মীয় সহনশীলতা বৃদ্ধি ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।






















আপনার মতামত লিখুন :