
ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি ধাক্কা এবার পড়ল দেশের সড়কপথে। জ্বালানির দাম বাড়ার পরপরই বাসভাড়ায় নতুন করে চাপিয়ে দেওয়া হলো বাড়তি বোঝা।
ঢাকা, চট্টগ্রাম মহানগর, আন্তজেলা ও দূরপাল্লার রুট—সবখানেই যাত্রীদের এখন গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা ভাড়া বাড়িয়ে নতুন হার নির্ধারণ করেছে, যা গত বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। ফলে নিত্যযাত্রী থেকে দূরপাল্লার ভ্রমণকারী—সবাই পড়েছেন নতুন আর্থিক চাপে।
চট্টগ্রাম মহানগরে ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা। নতুন এই হারে কালুরঘাট ব্রিজ থেকে চট্টগ্রাম নিউমার্কেট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার পথের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা।
একইভাবে চকবাজার মসজিদ থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত সর্বনিম্ন ভাড়া এখন ১০ টাকা। কালুরঘাট ব্রিজ থেকে শরাফত পেট্রলপাম্প পর্যন্ত যেকোনো গন্তব্যেও যাত্রীকে গুনতে হবে ন্যূনতম ১০ টাকা।
চট্টগ্রাম নিউমার্কেট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার পথের সম্পূর্ণ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭ টাকা। তবে এই রুটে নিউমার্কেট থেকে বাদামতলী পর্যন্ত যাত্রার জন্যও সর্বনিম্ন ভাড়া রাখা হয়েছে ১০ টাকা। অর্থাৎ, স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছেন না বাড়তি ব্যয়ের চাপ থেকে।
আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ৫১ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা।
তবে যাত্রীসেবার নামে অনেক পরিবহন কোম্পানি বড় বাসে আসন সংখ্যা কমিয়ে ৪০-এ নামিয়ে আনায় সেই বাসে ভাড়া আরও বেশি গুনতে হবে। এর সঙ্গে ফেরি ও সেতুর টোল যুক্ত হলে যাত্রীর ব্যয় আরও বাড়বে।
ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে চট্টগ্রাম রুটে ৫১ আসনের বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০৪ টাকা।
৪০ আসনের বাসে এই ভাড়া ৮৯২ টাকা। এর সঙ্গে টোল বাবদ অতিরিক্ত ৪৫০ টাকা যোগ হবে। ফলে এই রুটে যাত্রা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
কক্সবাজার রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৯০০ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ১৪৭ টাকা।
টেকনাফ রুটে ৫১ আসনের বাসে যাত্রীকে গুনতে হবে ১ হাজার ৪৭ টাকা, আর ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ৩৩৫ টাকা। দীর্ঘপথে এই বাড়তি ভাড়া সাধারণ যাত্রীদের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর থেকে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার রুটেও একই হারে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা। চট্টগ্রাম থেকে ফেনী হয়ে সোনাপুর পর্যন্ত ১৪৭ কিলোমিটার পথে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৩২৮ টাকা, আর ৪০ আসনের বাসে ৪১৮ টাকা।
চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ১৫৪ কিলোমিটার দূরত্বে ৫১ আসনের বাসভাড়া ৩৪৩ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৪৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম স্পষ্ট জানিয়েছেন, গ্যাসের দাম না বাড়ায় গ্যাসচালিত কোনো যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই।
তিনি সতর্ক করে বলেন, গ্যাসচালিত যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ডিজেলচালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে।
তবে গ্যাসচালিত যানবাহনে আগের নির্ধারিত ভাড়াই বহাল থাকবে এবং এ সিদ্ধান্ত থেকে বিচ্যুতির কোনো সুযোগ নেই।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির এই অভিঘাতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে যোগ হয়েছে নতুন ভোগান্তি।
কর্মজীবী, শিক্ষার্থী, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ—সবাই এখন বাড়তি ভাড়ার এই বোঝা কাঁধে নিয়ে পথ চলতে বাধ্য হচ্ছেন।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, ঢাকা থেকে টেকনাফ—দেশজুড়ে সড়কপথে যাত্রা এখন আরও ব্যয়বহুল। ডিজেলের দাম বাড়ার পর বাসভাড়াও বেড়েছে। আর সেই বাড়তি চাপ গিয়ে পড়েছে সরাসরি সাধারণ যাত্রীর পকেটে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বিআরটিএ, প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা ভাড়া বাড়িয়ে নতুন হার নির্ধারণ করেছে। নতুন এই ভাড়া ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম মহানগর, আন্তজেলা এবং দূরপাল্লার সব রুটে।
চট্টগ্রাম মহানগরে ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া এখন ২ টাকা ৫৩ পয়সা। আগে যা ছিল ২ টাকা ৪২ পয়সা। ফলে কালুরঘাট ব্রিজ থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার পথের ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা।
নগরীর স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। চকবাজার মসজিদ থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত ন্যূনতম ভাড়া এখন ১০ টাকা। একইভাবে, কালুরঘাট ব্রিজ থেকে শরাফত পেট্রলপাম্প পর্যন্ত যেকোনো গন্তব্যেও গুনতে হবে অন্তত ১০ টাকা।
চট্টগ্রাম নিউমার্কেট থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার পথের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭ টাকা। স্বল্প দূরত্বেও ন্যূনতম ভাড়া ১০ টাকা বহাল থাকছে।
আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাসে ৫১ আসনের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা। তবে ৪০ আসনের আরামদায়ক বাসে যাত্রীদের দিতে হবে আরও বেশি।
ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে চট্টগ্রাম রুটে ৫১ আসনের বাসভাড়া এখন ৭০৪ টাকা। ৪০ আসনের বাসে এই ভাড়া ৮৯২ টাকা। এর সঙ্গে টোল বাবদ অতিরিক্ত ৪৫০ টাকা যুক্ত হবে।
কক্সবাজার রুটে ৫১ আসনের বাসভাড়া ৯০০ টাকা। ৪০ আসনের বাসে তা ১ হাজার ১৪৭ টাকা। আর টেকনাফ রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ১ হাজার ৪৭ টাকা, ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ৩৩৫ টাকা।
চট্টগ্রাম থেকে ফেনী হয়ে সোনাপুর পর্যন্ত ৫১ আসনের বাসভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২৮ টাকা। ৪০ আসনের বাসে দিতে হবে ৪১৮ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা রুটে ৫১ আসনের বাসভাড়া ৩৪৩ টাকা, আর ৪০ আসনের বাসে ৪৩৭ টাকা।
সরকার বলছে, ডিজেলচালিত যানবাহনের ক্ষেত্রেই কেবল এই ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। গ্যাসের দাম না বাড়ায় গ্যাসচালিত যানবাহনে আগের ভাড়াই বহাল থাকবে।
সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, গ্যাসচালিত যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে বাস্তবতা হলো, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে নতুন এই ভাড়াবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিল।
কর্মজীবী, শিক্ষার্থী, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত—সব শ্রেণির মানুষের জন্য সড়কপথে চলাচল এখন আরও কঠিন, আরও ব্যয়বহুল।






















আপনার মতামত লিখুন :