স্কুলফেরত ৭ বছরের শিশুকে অপহরণ, উদ্ধার করল পুলিশ-মামাতো ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ন /
স্কুলফেরত ৭ বছরের শিশুকে অপহরণ, উদ্ধার করল পুলিশ-মামাতো ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অপহৃত ৭ বছর বয়সী শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে দুই দিন পর সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে সরফভাটা ইউনিয়নের পূর্ব প্রান্তের বালুরটাল এলাকার একটি ভবন থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (২২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) রাসেল।

পুলিশ জানায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে যায়।

স্কুল ছুটির পরও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

এরই মধ্যে শিশুটির এক সহপাঠীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান পরিবারের সদস্যরা।

ওই সহপাঠী জানায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজি চালক পরিচয় দিয়ে তাসকিনকে বলেছিল, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্যই পাঠানো হয়েছে। এই মিথ্যা তথ্যের ফাঁদে ফেলে শিশুটিকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় ওই ব্যক্তি।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।

এরপর পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একাধিক দল শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।

তবে অভিযানের শুরুতে অপহরণকারীদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য ছিল না।

এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অপহরণকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়।

অবশেষে মঙ্গলবার রাতে সরফভাটা ইউনিয়নের পূর্ব প্রান্তের বালুরটাল এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।

রাত পৌনে ১২টার দিকে একটি ভবন থেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অপহৃত শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে।

একই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় মো. রাকিব, মো. ফয়সাল ও মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। জব্দ করা হয় অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও।

শিশুটির বাবা মোহাম্মদ দেলোয়ার জানান, অপহরণকারীদের মধ্যে মো. ফয়সাল তার আপন মামাতো ভাই। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ফয়সালের স্ত্রীকেও পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে।

অপহরণের পর ফয়সাল কয়েকবার তার সঙ্গে দেখা করে এবং তাসকিনকে খুঁজে পেতে সহযোগিতার কথাও জানিয়েছিল।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অপহরণকারীরা ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করে। মেয়েকে ভিডিওকলে দেখাতে বলা হলেও তারা শিশুটিকে দেখায়নি।

একপর্যায়ে ফোনকল কেটে দেয়। এরপর পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে রাতেই তার সন্তানকে উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল ভুক্তভোগী শিশুটির বাবার মামাতো ভাই। পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন তিনি।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিচিত দুই সিএনজি চালক মো. রাকিব ও মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সম্পৃক্ত করেন এবং মুক্তিপণের টাকা তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

দুই দিন ধরে নিখোঁজ শিশুটিকে ঘিরে পরিবার ও স্বজনদের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটেছে পুলিশের তৎপরতায়।

তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারির সমন্বিত অভিযানে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে ফিরে এসেছে ৭ বছরের তাসকিন।