শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার পরও জয় নরওয়ের, নকআউটে হালান্ডরা


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুন ২৩, ২০২৬, ১:০৬ অপরাহ্ন /
শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার পরও জয় নরওয়ের, নকআউটে হালান্ডরা

২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে নরওয়ের স্বপ্নযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আর সেই অভিযাত্রার প্রধান নায়ক হয়ে উঠেছেন আরলিং হালান্ড।

ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা এই তারকা ফরোয়ার্ড এবারও করলেন দুই গোল।

তাঁর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল সেনেগাল।

সাদিও মানের দল ৫৭ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ১৬টি আক্রমণ গড়ে তোলে।

অন্যদিকে নরওয়ের বল দখল ছিল ৪৩ শতাংশ, আক্রমণও ছিল তুলনামূলক কম—১২টি। তবে কার্যকারিতার বিচারে এগিয়ে ছিল ইউরোপের দলটি।

প্রথমার্ধে দীর্ঘ সময় দুই দলই গোলের দেখা পায়নি। অবশেষে ৪৩ মিনিটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন মার্কুস হোমগ্রেন পেদারসেন।

বক্সের ডান প্রান্ত থেকে তাঁর নেওয়া শক্তিশালী শট গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে জালের ওপরের মাঝখানে আশ্রয় নেয়। সেই গোলেই বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন হালান্ড। ৪৮ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস পেয়ে বক্সের মাঝখান থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালের ওপরের ডান কোণে পাঠিয়ে দেন তিনি।

পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় সেনেগাল। বক্সের বাইরে পিঠ দিয়ে গোলের দিকে দাঁড়িয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চমৎকার দক্ষতায় সেটি ইসমাইলা সারের উদ্দেশে বাড়িয়ে দেন সাদিও মানে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে নরওয়ের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সার।

তবে সেনেগালের উচ্ছ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৫৮ মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়ান হালান্ড। ডান দিক থেকে আসা আক্রমণে প্রথমে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হলেও প্যাট্রিক বার্গ বল সামলে ছয় গজ বক্সের কিনারায় ফিরিয়ে দেন।

সেখানে অপেক্ষায় থাকা হালান্ড শক্তিশালী শটে বল জালের ছাদে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন।

ম্যাচের শেষদিকে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। ৯ মিনিট অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইসমাইলা সার।

নরওয়ের রক্ষণে তৈরি হওয়া ফাঁক কাজে লাগিয়ে গোলরক্ষক অরইয়ান নিয়ল্যান্ডকে পরাস্ত করেন তিনি।

এই গোলের পর ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি হলেও সমতা ফেরাতে পারেনি সেনেগাল।

শেষ মুহূর্তে দুই দলই কয়েকটি সুযোগ পেলেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।

দুই ম্যাচে টানা জয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে।

গ্রুপ পর্বে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৭ জুন। একই দিনে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামবে সেনেগাল।

বিশ্বকাপে নরওয়ের প্রত্যাবর্তনের গল্পে এখন সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম আরলিং হালান্ড।

দুই ম্যাচে চার গোল করে তিনি শুধু দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্বই দিচ্ছেন না, নরওয়ের নতুন স্বপ্নেরও প্রতীক হয়ে উঠেছেন।