আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঠেকাতে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুন ২২, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ন /
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঠেকাতে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনা মোতায়েনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা–২ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শো-ডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করছে।

এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ এবং ফরিদপুর জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা সদস্য মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠি অনুযায়ী, ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দিনটিকে সামনে রেখে দলটির পক্ষ থেকে মিছিল, শো-ডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি পালনের চেষ্টা হতে পারে, যা বর্তমান আইনি অবস্থার পরিপন্থী বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের কয়েকটি ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে।

গত রোববার গাজীপুরে যুবলীগের নেতা-কর্মীদের একটি মিছিল থেকে পুলিশকে উদ্দেশ করে হুমকিমূলক স্লোগানও শোনা যায়।

উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।

পরে ২০২৫ সালের ১০ মে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের মাধ্যমে কোনো কোনো সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়।

ওই আইনি কাঠামোর আওতায় আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের আমলে গত ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন পাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য তৎপরতা মোকাবিলায় সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ কারণেই সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সেনা মোতায়েনের তালিকাভুক্ত একটি জেলার জেলা প্রশাসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তিনি এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো ঢাকাকে নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হবে।

এ উপলক্ষে রাজধানীর ২০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ তল্লাশিচৌকি বসানো হবে। পাশাপাশি নগরীর সব প্রবেশপথে কড়া চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিটগুলোও মাঠে থাকবে।

রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।