
হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টনের বেশি অপরিশোধিত (ক্রুড) তেল নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে বিশালাকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’।
জাহাজটি ইতিমধ্যে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে যাত্রা করে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল বা ‘রেড জোন’ অতিক্রম করে বাংলাদেশের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বুধবার (১৭ জুন) জাহাজটির চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি), ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি আরব থেকে ইতোমধ্যে দুই দফায় ক্রুড অয়েল আনা হয়েছে।
এবার তৃতীয় ট্রিপে ৩০ মে ইয়ানবু বন্দর থেকে লোড নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ যাত্রা শুরু করে। এ ট্রিপে ১ লাখ টনেরও বেশি ক্রুড অয়েল বাংলাদেশে আসছে।
তিনি আরও জানান, সবকিছু পরিকল্পনামাফিক থাকলে জাহাজটি বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে।
পাশাপাশি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরা বন্দরে আগে লোড করা আরও একটি জাহাজ ‘নর্ডিকস পলাক্স’ হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রায় ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।
এছাড়া ২৭–২৮ জুনের মধ্যে আরও প্রায় ১ লাখ টন সৌদি ক্রুড অয়েল লোড করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তার মতে, এসব চালান সফলভাবে পৌঁছালে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে এবং সংকটের আশঙ্কা কমবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টন ডিজেল উৎপাদিত হচ্ছে। পাশাপাশি এলপিজি, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও এমএস অকটেনসহ বিভিন্ন বাই-প্রোডাক্টও উৎপাদন হচ্ছে।
প্রায় ২৪৯.৯৫ মিটার দীর্ঘ ‘এমটি নিনেমিয়া’ কর্ণফুলী নদী হয়ে সরাসরি ডলফিন জেটিতে ভিড়তে পারবে না। তাই নিয়ম অনুযায়ী ছোট ট্যাংকার জাহাজের মাধ্যমে (লাইটারিং প্রক্রিয়ায়) তেল খালাস করা হবে।
সূত্র আরও জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ক্রুড অয়েলের মজুত কমে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজে তেল আসার পর ৮ মে পুনরায় ইউনিটটি চালু করা হয়।
এদিকে, সরকার যুদ্ধকালীন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প উৎস থেকেও বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব জানান, জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে জাহাজ বার্থিং, লাইটারিং ও খালাস কার্যক্রমে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৫৩৯ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ বুধবার বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।






















আপনার মতামত লিখুন :