দুদকের মামলায় দুবাই থেকে এলো সাবেক আইজিপি বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবর


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুন ১৪, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ন / ০ Views
দুদকের মামলায় দুবাই থেকে এলো সাবেক আইজিপি বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবর

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই সিটি পুলিশ এই গ্রেপ্তার কার্যকর করেছে বলে পুলিশের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে দুদককে ১২ জুন পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারি পর্যায়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

মামলার পটভূমি ও অভিযোগ:
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্য পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১০ কোটি টাকা।

এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৮ মার্চ ঢাকার একটি আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

আদালত একই সঙ্গে তার অবস্থান বিদেশে থাকতে পারে উল্লেখ করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেয়।

বিদেশে অবস্থান ও অনুসন্ধান:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছিলেন। গত বছরের ৪ মে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশ ত্যাগ করেন বলে জানা যায়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়।

এদিকে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় সম্পদের অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী পদক্ষেপ:
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারপোলের রেড নোটিসের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে আটক করেছে। বর্তমানে তিনি তাদের হেফাজতে রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে ফেরত আনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে দুদক—এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার পর সাধারণত প্রত্যর্পণ (extradition) চুক্তি ও বিচারিক অনুমোদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনায় বিষয়টি:
সাবেক উচ্চপদস্থ এই পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে এমন খবর প্রকাশের পর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মামলার অগ্রগতি:
দুদকের এই মামলায় ইতোমধ্যে পাঁচজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৩ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য রয়েছে।