চট্টগ্রাম কাঁপানো আয়াত হত্যা: স্বীকারোক্তির পর বিচার, রায় ১৭ জুন


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : মে ২৫, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ন /
চট্টগ্রাম কাঁপানো আয়াত হত্যা: স্বীকারোক্তির পর বিচার, রায় ১৭ জুন

চট্টগ্রামকে নাড়িয়ে দেওয়া পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১৭ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এখন শেষ পর্যায়ে। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে।

চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালতে মামলাটির বিচার চলছে। গত শনিবার যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সব পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আগামী ১৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে ইপিজেড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ঘটনার পর বিষয়টি আলোচনায় এলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর তথ্য। আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন তাদের বাসার ভাড়াটিয়া মো. আবির।

২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশু আয়াতকে অপহরণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর ঘটনাটি আড়াল করতে শিশুটির মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। এই নির্মমতা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের জন্ম দেয়।

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে মো. আবির ও তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকে আসামি করা হয়।

কিশোর হওয়ায় দ্বিতীয় আসামির নাম প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে আবির কারাগারে আছেন। অন্যদিকে কিশোর আসামির বিচার শিশু আদালতে চলছে।

মামলার বাদী ও আয়াতের বাবা সোহেল রানা বলেন, “আমার মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।”

আয়াতের মা সাহেদা আক্তারের কণ্ঠেও এখনো সেই শোকের ভার। তিনি বলেন, “এক মুহূর্তের জন্যও মেয়ের মুখ ভুলতে পারিনি। আমরা আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রায়কে ঘিরে এখন অপেক্ষা শুধু আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের।

নিহত শিশুর পরিবার ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—এই রায় যেন এমন এক বার্তা দেয়, যাতে আর কোনো আয়াতকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়।