সাজেক সড়ক অবরুদ্ধ, থমকে গেছে পর্যটন


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ন / ০ Views
সাজেক সড়ক অবরুদ্ধ, থমকে গেছে পর্যটন

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক যেন আবারও অস্থিরতার আগুনে জ্বলছে।

ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমা ওরফে তরুণ হত্যার প্রতিবাদে সোমবার (১১ মে) ভোর থেকে দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়ক কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর ডাকা আধাবেলা অবরোধে থমকে যায় পুরো সাজেক পর্যটন রুট।

ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউপিডিএফ কর্মীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়।

ফলে সাজেকগামী ও সেখান থেকে ফেরার অপেক্ষায় থাকা পর্যটকবাহী জিপ—স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘চাঁদের গাড়ি’—সহ সব ধরনের যানবাহন মাঝপথেই আটকা পড়ে।

সাজেক পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাব্বির হোসেন অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ৯ মে শনিবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে সাংগঠনিক কাজে বের হন ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমা।

সাজেক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শুকনাছড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর ওত পেতে থাকা ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

নিহত হেগেরা চাকমা রেতকাবা এলাকার বাসিন্দা রঙ্গমনি চাকমার ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউপিডিএফ তাদের প্রতিপক্ষ আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলকে দায়ী করে আসছে, যা পাহাড়ি জনপদে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।

অবরোধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগে পড়েছেন।

দুপুর ১২টার পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে—এমন আশায় অপেক্ষা করছেন অনেকে।