বডি ক্যামেরায় নজরদারি বাড়ছে, পুলিশিংয়ে আসছে বড় পরিবর্তন


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ন /
বডি ক্যামেরায় নজরদারি বাড়ছে, পুলিশিংয়ে আসছে বড় পরিবর্তন

পর্যটন খাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছায়নি—এ কথা সরাসরি স্বীকার করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানালেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, তবে কাঙ্ক্ষিত সুনাম অর্জনে এখনো ঘাটতি রয়ে গেছে।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর শাপলা হল-এ পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি স্পষ্ট করে দেন—পর্যটন নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি সরাসরি দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত। তাই টুরিস্ট পুলিশ ও আইজিপিকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।

পুলিশি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়াতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কথাও জানান তিনি। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দায়িত্ব পালনে বডি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হবে। ভবিষ্যতে প্রতিটি পর্যায়ে এই ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে সব কার্যক্রম রেকর্ডে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

মানবাধিকার প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক বার্তা দেন—অপরাধ দমন, তদন্ত কিংবা প্রসিকিউশন—সব ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী ‘ন্যূনতম বলপ্রয়োগ’ নিশ্চিত করতে হবে। কৌশলী কিন্তু মানবিক পুলিশিংয়ের ওপর জোর দেন তিনি।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সড়ক-মহাসড়ক থেকে শুরু করে শিল্পাঞ্চল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প—সবখানেই পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় রয়েছে—এপিবিএন, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

পুলিশি সেবার ক্ষেত্রে জনগণের ভোগান্তি দূর করারও নির্দেশ দেন তিনি। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও অনলাইন জিডি দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে দিতে হবে—এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ সহ্য করা হবে না।

পুলিশিংয়ের ধারণাতেই পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আর পুলিশ শুধু অপরাধ দমনের বাহিনী নয়—জনগণের আস্থা অর্জনই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

“পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ”—এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

এলিট ফোর্স র‍্যাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন তিনি। র‍্যাবের জন্য আলাদা আইন ও কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নাম পরিবর্তন হবে কিনা, তা পরে সিদ্ধান্ত হলেও, বাহিনীটিকে কার্যকর রাখতে আইনগত ভিত্তি, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাহিনীর শৃঙ্খলা ভাঙলে কোনো ছাড় নেই। চেইন অব কমান্ড অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত বিভাগীয় শাস্তির মাধ্যমে দুর্নীতিকে দমন করা হবে।

শেষ পর্যন্ত তিনি পুলিশকে জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে মাদক, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সরকারের লক্ষ্য স্পষ্ট—বাংলাদেশ পুলিশকে একটি বিশ্বমানের, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা।