
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে নিহতদের পরিচিত কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম।
ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ সুপার।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহতদের পরিচিত কেউ রাতের বেলায় বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালায়।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিষয়ে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এসপি মাসুদ আলম।
তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত কোনো বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
এদিকে পুলিশ সুপারের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের খবর পেয়ে সেখানে ভিড় করেন নিহত স্কুলছাত্রী প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার সহপাঠীরা। শোকাহত শিক্ষার্থীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রিয়ন্তীর সহপাঠী উম্মে ফাতিমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “প্রিয়ন্তী সব সময় হাসিখুশি থাকত। তার পরিবারের কোনো সমস্যার কথা আমাদের কখনো বলেনি। আমরা তার হত্যার বিচার চাই।”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্ত একটি পরিবারে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে একই ঘটনায় পরিবারের পাঁচ বছর বয়সী সদস্য পিয়াস বড়ুয়া আহত হওয়ায় ঘটনাটি আরও হৃদয়বিদারক হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকা থেকে এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার (১৬) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘটনায় আহত হয় পাঁচ বছর বয়সী পিয়াস বড়ুয়া।
তদন্তকারীরা এখন হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য, ঘটনার সময়কার গতিপ্রকৃতি এবং সন্দেহভাজনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন।
পুলিশের দাবি, তদন্তের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক এবং খুব শিগগিরই এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হতে পারে।






















আপনার মতামত লিখুন :