সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল Copied from: https://rtvonline.com/


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ন /
সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল  Copied from: https://rtvonline.com/

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে বুধবার সকাল থেকেই নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর জানাজা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও চট্টগ্রামের এই প্রবীণ রাজনীতিকের জানাজায় অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

দলীয় বিভাজন ভুলে অনেকেই এসেছিলেন একসঙ্গে দাঁড়াতে—শেষ বিদায়ের এই মুহূর্তে।

জানাজা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে রাখা মরদেহ ঘিরে আবেগঘন পরিবেশে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

কেউ নীরবে কাঁদেন, কেউবা স্লোগানে জানান দেন তাঁদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কাউকে বাধা দিতে দেখা যায়নি।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। “এমন অবদানের জন্য চট্টগ্রামবাসী তাঁকে সবসময় মনে রাখবে,”—যোগ করেন তিনি।

শোকাহত কণ্ঠে মরহুমের ছেলে সাবেদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর বাবা না–ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

তিনি বলেন, “তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশ ও চট্টগ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।” এ সময় তিনি সবার কাছে তাঁর বাবার জন্য দোয়া চান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কয়েক দিন আগে তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

১৯৬৬ সালে লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পাশাপাশি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর মেজো ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব উর রহমান রুহেল ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

একজন রাজনীতিকের বিদায়, একটি সময়েরও সমাপ্তি। চট্টগ্রামের মানুষ উন্নয়ন, সংগ্রাম আর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার জন্য তাঁকে মনে রাখবে।