
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) এলাকায় গাছ কাটা চক্রকে ঘিরে সহিংসতা যেন থামছেই না।
মামলার জেরে আবারও সংঘবদ্ধ হামলায় পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছেন, ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের গাড়ি। শিল্পাঞ্চলজুড়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও অস্থিরতা।
গতকাল সোমবার (৪ মে) রাত আটটা থেকে শুরু হয়ে কয়েক দফায় বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর গেইট এলাকায় এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অবস্থান নেয়, ফলে পুরো এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর একদল ব্যক্তি হঠাৎ করে কেইপিজেডের নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া শুরু করে।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আত্মরক্ষায় নিরাপত্তারক্ষীরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়। রাত নয়টার দিকে সহিংসতা চরমে পৌঁছে।
পুলিশ জানায়, পাহাড় থেকে গাছ কাটতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে দুর্বৃত্তরা। সেই ক্ষোভ থেকেই তারা নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা চালায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেও কিছুক্ষণ পর আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে গাছ কাটা চক্রের সদস্যরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল)। বিকেলে দৌলতপুর নর্থ-০২ ব্লকের একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার ১৫টি গাছ কেটে নেওয়ার সময় বাধা দেন নিরাপত্তারক্ষীরা। এ সময় হামলায় গুরুতর আহত হন গার্ড কমান্ডার তোবারক মিয়া।
এই ঘটনায় শনিবার (২ মে) কর্ণফুলী থানায় কেইপিজেডের সিকিউরিটি ইনচার্জ সৈয়দ মো. এবাদুর রহমান বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
ওই মামলার আসামিদের ধরতে সোমবার বিকেলে অভিযানে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, রাত সাড়ে নয়টার দিকে আসামিরাই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবারও কেইপিজেডের মূল ফটকে হামলা চালায়। এতে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
শিল্প পুলিশের সহকারী উপ পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, আসামিদের ধরতে গেলে তারা পুলিশের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়ায়।
কেইপিজেডের সহকারী উপমহাব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান জানান, আগের ঘটনায় বাধা দেওয়ায় এক নিরাপত্তারক্ষীর হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।
মামলা করার পর আসামিদের ধরতে গিয়ে পুলিশ নতুন করে হামলার মুখে পড়ে। কিছু স্থাপনাতেও ভাঙচুর চালানো হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-এর সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী) জামাল উদ্দীন চৌধুরী বলেন, “গাছ কাটাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।” পুলিশ ইতিমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে। সোমবার রাত থেকেই অস্ত্রধারীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগেও একই এলাকায় গাছ কাটা চক্র সক্রিয় ছিল।
গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর চারজনকে আটক করে শিল্প পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে দমন হয়নি এই চক্রের দৌরাত্ম্য, বরং এবার তা আরও সহিংস রূপ নিয়েছে।






















আপনার মতামত লিখুন :