অনিশ্চয়তা কাটল সাগরিকা পশুর হাটে, সর্বোচ্চ দর ৮ কোটি ৮ লাখ টাকা


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ন /
অনিশ্চয়তা কাটল সাগরিকা পশুর হাটে, সর্বোচ্চ দর ৮ কোটি ৮ লাখ টাকা

চট্টগ্রাম নগরের সবচেয়ে বড় পশুর হাট সাগরিকা পশুর হাট। কোরবানির ঈদকে ঘিরে এই হাটকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর জমে ওঠে বিশাল বাণিজ্য।

কিন্তু গত বাংলা সনে প্রত্যাশিত দর না পাওয়ায় হাটটি ইজারা দিতে পারেনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ফলে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এবারও শুরুটা ছিল একই রকম।

প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় একটি দরপত্র ফরমও জমা পড়েনি। তৃতীয় দফায় কিছুটা সাড়া মিললেও প্রত্যাশিত দর মেলেনি। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ দফায় এসে মিলেছে কাঙ্ক্ষিত দর।

এবার সাগরিকা পশুর হাটের ন্যূনতম ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ কোটি ২ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত ৮ কোটি ৮ লাখ টাকা দর দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছেন ফজলে আলিম চৌধুরী। মোট ৬টি দরপত্র ফরম বিক্রি হলেও জমা পড়েছে ৪টি। গত বৃহস্পতিবার দরপত্র বক্স খোলা হয়।

এখন দরপত্র কমিটির সভায় বিষয়টি অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ইজারাদারের কাছে হাট হস্তান্তর করা হবে। যদিও সেই সভার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

কেন কমছে ইজারাদারদের আগ্রহ?
সংখ্যার হিসাব বলছে, সাগরিকা পশুর হাট এখনও বড় ও লাভজনক। তবে বাস্তবতা হলো, এই হাটকে ঘিরে ব্যবসায়িক আগ্রহ আগের তুলনায় কমেছে। একসময় কোরবানির পশু কেনাবেচার প্রধান কেন্দ্র ছিল ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটগুলো। এখন চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।

বর্তমানে অনেক ক্রেতা সরাসরি খামার থেকে কোরবানির পশু কিনছেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগী কমছে, সময়ও বাঁচছে। পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে নগরের অলিগলি, মহল্লা এবং আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠে অসংখ্য অননুমোদিত পশুর হাট। এসব কারণে স্থায়ী হাটে ক্রেতার চাপ আগের মতো থাকে না। ফলে ইজারাদারদের লাভের হিসাবও বদলে গেছে।

আগের বছরের তুলনায় কম আয়
এবার সর্বোচ্চ দর পাওয়া গেলেও গত তিন বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে কম। ১৪৩১ বাংলা সনে সাগরিকা পশুর হাট থেকে সিটি করপোরেশনের আয় হয়েছিল ৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। ১৪৩০ বাংলা সনে ইজারা দেওয়া হয়েছিল ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকায়। আর গত বাংলা সনে প্রত্যাশিত দর না পাওয়ায় কোনো ইজারাদার নিয়োগ দেওয়া যায়নি।

সেই তুলনায় এবার ৮ কোটি ৮ লাখ টাকার দর সিটি করপোরেশনকে স্বস্তি দিলেও আগের উচ্চতা ছুঁতে পারেনি।

সিটি করপোরেশনের অবস্থান
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল জানিয়েছেন, কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়ায় একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করতে হয়েছে।

অবশেষে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দর পাওয়া গেছে। তাই নিয়ম মেনেই সর্বোচ্চ দরদাতাকে হাট ইজারা দেওয়া হবে।

ইজারার মেয়াদ কতদিন?
নিয়ম অনুযায়ী বাংলা সনের প্রথম দিন থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য স্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়। সে হিসেবে আগামী বছরের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ইজারাদার হাট থেকে হাসিল আদায়ের অধিকার পাবেন।

চট্টগ্রাম নগরের আরেক স্থায়ী পশুর হাটও ইতোমধ্যে ৬৭ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।

ঈদ সামনে, ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাটের প্রস্তুতি
পবিত্র ঈদুল আজহা আগামী ২৭ বা ২৮ মে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে উদ্‌যাপিত হতে পারে। এ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরে ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরে তিনটি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে—সাগরিকা, বিবিরহাট এবং পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার। গত বছর অস্থায়ী হাট ছিল ১০টি। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৬ করা হচ্ছে।

যেসব স্থানে অস্থায়ী হাট বসানোর পরিকল্পনা
বাকলিয়ার নূর নগর হাউজিংয়ে কর্ণফুলী পশুর বাজার, পতেঙ্গায় টি কে গ্রুপের খালি মাঠ, পতেঙ্গার পূর্ব হোসেন আহম্মদপাড়া, সাইলো রোডসংলগ্ন টিএসপি মাঠ, সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, বড়পোলের মহেশ খালের দুই পাড়ের খালি জায়গা, ওয়াজেদিয়া মোড়, আউটার রিং রোডে সিডিএ বালুর মাঠ, মোহরার জানালী হাট রেলস্টেশনের পাশের খালি জায়গা, মধ্যম হালিশহর মুনির নগর আনন্দ বাজারসংলগ্ন এলাকা, সল্টগোলা রেল ক্রসিং, চৌধুরী হাট, হালিশহর পুলিশ লাইনের সামনে সড়কসংলগ্ন স্থান, মাদারবাড়ি পোর্ট সিটি হাউজিংয়ের খালি জায়গা, পতেঙ্গা স্টিল মিল বাজার এলাকা, উত্তর হালিশহর গলিচিপা পাড়া বারুনিঘাটা মাঠ এবং অলংকার গরুর মাঠ।

অনুমতির পর শুরু হবে ইজারা প্রক্রিয়া
অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর আগে নগর পুলিশের (সিএমপি) অনাপত্তি প্রয়োজন। এরপর জেলা প্রশাসন চূড়ান্ত অনুমতি দেবে। অনুমতি পাওয়ার পর প্রতিটি হাট ইজারা দেওয়ার জন্য পৃথক দরপত্র আহ্বান করবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

সাগরিকা পশুর হাটের ইজারা সম্পন্ন হওয়ায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা কেটে গেল। তবে পশুর হাটের প্রচলিত ব্যবসায়িক কাঠামো যে দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট।

খামারভিত্তিক সরাসরি বিক্রি, অননুমোদিত হাটের বিস্তার এবং ক্রেতার আচরণে পরিবর্তন—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় নতুন কৌশল নিতে হবে।

নইলে নগরীর ঐতিহ্যবাহী এই হাটগুলোর অর্থনৈতিক গুরুত্ব ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।