
বিশেষ প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির মাত্রা এতই বেড়েছিল যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আত্মমানবতার ফান্ডও রক্ষা পায়নি ফ্যাসিস্টদের কবল থেকে।
কাজেম আলী স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সানজিদা মোখতার তানজিনের যোগসাজোশে আওয়ামী ফান্ডে গেল লক্ষ লক্ষ টাকা। যার কিছু প্রমাণও এসেছে গণমাধ্যমের হাতে।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাজেম আলী স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এসএসসি পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
চট্টগ্রাম শহরে ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত উক্ত প্রতিষ্ঠান শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে আসছিল সুনামের সাথে। দীর্ঘ ১২৭ বছর পর ২০১২ সাল চালু হয়েছে কলেজ শাখা।
আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির গভর্ণিং বডির সভাপতি মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী সরকারের সাবেক মেয়র আজম নাছির উদ্দিন এবং সাবেক ফ্যাসিস্ট শিক্ষামন্ত্রী নওফেল।
২০১২ সালে কলেজ প্রতিষ্টাকালীন সভাপতি ছিলেন সৈয়দ ওমর ফারুক, পরবর্তীতে নওফেলের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদেকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয় এবং ২০২৩ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের আরেক প্রভাবশালী নেতা মশিউর রহমান সভাপতি হন।
আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদ সভাপতি থাকা অবস্থায় এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে নন এমপিও শিক্ষক অধ্যক্ষ হওয়ার সরকারি কোন বিধান না থাকলেও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দাপটে উক্ত নিয়মকে তোয়াক্কা না করে তৎকালীন নন এমপিও শিক্ষক লুৎফুন্নেছা সিকদার এবং সানজিদা মোখতার তানজিনকে আওয়ামী লীগের আস্থাভাজন হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন এবং সভাপতিকে অনৈতিক সুবিধা দেয়ার শর্তে ৪ বছর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ দখল করে রাখেন বলে খবর পাওয়া যায়।
আরো জানা যায় সানজিদা মোখতার তানজিনের এমপিওতেও জালিয়াতি রয়েছে যা বিভিন্ন সময় পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্রমতে, ২০২১ সালের মে মাসে তিন লক্ষ টাকা সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনে প্রদান করা হয়। একই বছরের নভেম্বরে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকীতে দেয়া হয় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং বিজয় দিবস পালন করতে চকবাজার থানা আওয়ামী লীগকে দেয়া হয় পঞ্চাশ হাজার টাকা।
২০২৩ সালে তৎকালীন মন্ত্রীকে খুশি রাখতে প্রতিষ্টানের ফান্ড থেকে আবারো স্বয়ং মন্ত্রীর ফান্ডে দেয়া হয় দুই লক্ষ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন নামে বেনামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের খবর এসেছে গণমাধ্যমের হাতে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সানজিদা, শিক্ষক আকতার হোসেন, জাহিদ ইকবাল এবং শিক্ষিকা কৃঞ্চা দও সহ আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের আরো কিছু শিক্ষক এতে জড়িত।
এলাকাবাসী ও সাধারণ শিক্ষকদের সাথে আলোচনায় জানা যায় অনেক গরীব, দুস্থ ও অসহায় ছাত্রদের টাকা অনৈতিক ভাবে বরাদ্দ দিয়ে তারাও অনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছেন।
এই অস্বাভাবিক লেনদেনের জন্য গভর্নির বডির সদস্যদের সাথে জড়িত শিক্ষকদেরও সনাক্ত করে বিচারের মুখোমূখি করার দাবী করেন।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের পর আওয়ামী ফ্যাসিস্ট এর দোসর খ্যাত অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা এখনো কেমনে শিক্ষকতা পেশায় বহাল থাকে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রচারিত আছে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর খ্যাত সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সানজিদা মোখতার তানজিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অবৈধ মেয়াদ বৃদ্ধি করতে সভাপতিকে খুশি রাখার হাতিয়ার হিসাবে বিভিন্ন নামে কলেজ ফান্ডের টাকা নিজেদের করে নিয়েছেন এবং অত্র প্রতিষ্টানের আওয়ামী পন্থী কয়েকজন শিক্ষককে সাথে নিয়ে তা ভাগ বাটোয়ারা করতেন।
উক্ত শিক্ষকদের সাথে নিয়ে এম.পি মন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সাথে ফুল বিনিময় করতেন। বিপুল পরিমান প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ বিনিময় ও আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর নিকটতম প্রিয় ব্যক্তি হিসেবে প্রমান দিতে সক্ষম হওয়ায় সানজিনা মোখতার তানজিন দীর্ঘ আট মেয়াদে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করে সাবেক শিক্ষক প্রতিনিধিদের একজন জানান, আমি কলেজ পরিচালনা কমিটিতে থাকলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং আওয়ামীপন্থী কয়েকজন শিক্ষকের কারণে অন্যায় অনিয়মের কোন প্রকার প্রতিবাদ করতে পারি নি।
কোন কথা বলার চেষ্টা করা হলে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি দিয়ে বলতো মন্ত্রী মহোদয়ের আদেশে কলেজ পরিচালনা হচ্ছে অতএব যেভাবে চলছে সেভাবে চললে চাকরী থাকবে অন্যথায় চাকরী হারাতে হবে। যার কারণে আমরা কোন প্রকার প্রতিবাদ করতে পারি নি।
তিনি আরো জানান, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিটিং ও প্রোগ্রামে ফুলের মালা নিয়ে উপস্থিত হতেন অধ্যক্ষসহ অনেক আওয়ামী পন্থী শিক্ষক। অধ্যক্ষের পিড়াপিড়ির কারণে মাঝে মধ্যে আমাদেরও উপস্থিত থাকতে হতো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে। তারা দীর্ঘদিন ফ্যাসিজম দিয়েই চালিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান।
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম নামের একজন অভিভাবক জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষার্থী টাকার অভাবে লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছে না অথচ সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সানজিদার এই অপকর্মের খবর শোনে আমি ব্যতিত হলাম।
আর্তমানবতা বা আওয়ামী ফান্ডের নামে আরো কত টাকা আত্মসাৎ করেছে তার হিসাব বের করে বিচারের আওতায় আনা দরকার।
শিক্ষা প্রতিষ্টানের টাকা এভাবে বরাদ্দ দেয়ার নিয়ম আছে কিনা জানতে চায়লে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব সামশুদ্দিন আজাদ বলেন এধরনের বরাদ্দ দেয়ার কোন নিয়ম নাই।
নির্দিষ্ট বিধিবিধানের বাহিরে ফান্ড দেয়ার বিষয়ে অভিযোগ করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।






















আপনার মতামত লিখুন :