মুজাফরাবাদে উৎসবের আমেজ, নবীন নেতৃত্বে সবুজ সংঘ ক্লাবের অভিষেক সম্পন্ন


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুন ১, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন /
মুজাফরাবাদে উৎসবের আমেজ, নবীন নেতৃত্বে সবুজ সংঘ ক্লাবের অভিষেক সম্পন্ন

সামাজিক উন্নয়ন, মানবসেবা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী মুজাফরাবাদ সবুজ সংঘ ক্লাব।

বর্ণাঢ্য আয়োজন, আলোচনা সভা, শপথ গ্রহণ ও রাতব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সংগঠনটির ‘অভিষেক, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬’।

গত শনিবার মুজাফরাবাদে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনকে ঘিরে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

গ্রামবাসী, শিক্ষার্থী, তরুণ-প্রবীণ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় প্রাণবন্ত সামাজিক মিলনমেলায়।

বিকেলে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার প্রতীক হিসেবে কবুতর এবং রঙিন বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। এরপর স্থানীয় টেলিভিশন ও বেতার শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকদের মুগ্ধ করে।

সন্ধ্যায় পবিত্র গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল পর্ব। অতিথি বরণ, উত্তরীয় প্রদান ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয় বিশেষ মর্যাদা। সংগঠনের সাবেক সভাপতি বিপ্লব সেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভার উদ্বোধন করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর বাগীশিকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক বাবু বনগোপাল চৌধুরী।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মুজাফরাবাদ বধ্যভূমি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. তাপসী ঘোষ রায়। তিনি বলেন, “সবুজ সংঘ ক্লাব শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়; এটি মুজাফরাবাদের সামাজিক ঐক্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার এক উজ্জ্বল প্রতীক। নতুন কমিটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশাবাদী।”

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ১৭নং খরনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মফজল আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “যে সমাজে তরুণরা দায়িত্ব গ্রহণ করে, সেই সমাজ কখনও পিছিয়ে থাকে না। সবুজ সংঘ ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”

মহান অতিথি ছিলেন মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইদ্রিস মিয়া। বিশেষ বক্তা ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল করিম মেম্বার। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা সুনীল বিশ্বাস, সমাজসেবক সুখেন্দু বিকাশ নন্দী, ইউপি সদস্য খোকন চৌধুরী, ইউপি সদস্যা শুক্লা চৌধুরী, প্রবীর ঘোষ, উত্তম সেন, নির্মল ধর, সঞ্জিত ঘোষ, কাজল সেনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ। নবনির্বাচিত সভাপতি সঞ্জয় নন্দী ও সাধারণ সম্পাদক রানা সেনের নেতৃত্বে ৪৭ সদস্যের কার্যকর পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিদায়ী সভাপতি শংকর ঘোষ শপথবাক্য পাঠ করান। এসময় নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ মানবকল্যাণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।মুজাফরাবাদ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. তাপসী ঘোষ রায়কে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানান, সংগঠনের সহ সভাপতি সাংবাদিক রাজীব সেন প্রিন্স।

একইসঙ্গে সংগঠনের দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিদায়ী সভাপতি শংকর ঘোষ ও সম্পাদক অঞ্জন চৌধুরীকেও সম্মাননা জানানো হয়।

নৈশভোজ শেষে শুরু হয় রাতব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় গান পরিবেশনের মাধ্যমে মঞ্চে ওঠেন মুখোশ ব্যান্ডের সার্জিল।

পরবর্তীতে জনপ্রিয় শিল্পী প্রিয়া মনি ও কণ্ঠশিল্পী পিও তাঁদের পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন। করতালি, উচ্ছ্বাস ও গানের সুরে মুখর এই আয়োজন চলে ভোর পর্যন্ত।

সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি বিপ্লব সেন বলেন, “সংগঠনের প্রকৃত শক্তি হলো ঐক্য, আন্তরিকতা ও মানবসেবার মানসিকতা। সেই শক্তিকে ধারণ করেই নতুন কমিটি সমাজের কল্যাণে কাজ করবে।”

উল্লেখ্য, আগামী ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য সবুজ সংঘ ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সঞ্জয় নন্দী এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন রানা সেন।মুজাফরাবাদ

নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের গৌরবময় ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে সমাজ উন্নয়ন, মানবকল্যাণ ও তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

“তারুণ্যের শক্তিতে গড়বো সুন্দর সমাজ”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সবুজ সংঘ ক্লাবের নতুন পথচলা শুরু হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে।