
চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোডে সংগঠিত আলোচিত জোড়া খুন মামলার দুই আসামি মোবারক হোসেন (ইমন) ও বোরহান উদ্দিন।
দুজনই বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ বড় সাজ্জাদের সহযোগী। দুজনকে গ্রেপ্তারে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হলেও তারা ধরা পড়েনি।
বরং পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি তারা উচ্চ আদালতে হাজির হয়। নিয়ে নেয় ছয় সপ্তাহের জামিন।
চারদিন আগে গেল ২৯ মার্চ বাকলিয়া থানায় এ আদেশ পৌছানোর পরেই বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। যা গোয়েন্দা নজরদারির বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া দুই ‘সন্ত্রাসীর’ জামিন পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, জোড়া খুনের মামলায় পুলিশ তাঁদের খুঁজছে। এরই মধ্যে তাঁরা উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেয়ে যান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষকে জানানো হচ্ছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এক্সেস রোডে এলোপাতাড়ি গুলিতে বখতিয়ার হোসেন ও মো. আবদুল্লাহ নিহত হন।
হামলার লক্ষ্য ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সরোয়ার হোসেন, যিনি সে সময় বেঁচে গেলেও পরে ৫ নভেম্বর গুলিতে নিহত হন।
জোড়া খুনের ঘটনার পরদিন ৩১ মার্চ থানায় মামলা হয়। এ মামলায় মোবারক ও বোরহান এজাহারভুক্ত আসামি।
এই হামলা মূলত ঝুট ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষের অংশ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আসামি ইমন ও বোরহান বিভিন্ন খুন ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকাইয়া আকবর হত্যাও আছে। ইমনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং অস্ত্রসহ তার ছবি পুলিশের কাছে রয়েছে।
এদিকে, বড় সাজ্জাদ স্মার্ট গ্রুপের কাছে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে ব্যর্থ হয়ে একাধিকবার গুলি চালানোর ঘটনাতেও জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসামিদের খোঁজ চলছে এবং জামিনের বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষকে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার বলছেন, এখন রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।






















আপনার মতামত লিখুন :