উত্তাল ফটিকছড়ি, রোববার থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ন /
উত্তাল ফটিকছড়ি, রোববার থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল

সদ্য ঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তরের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে আবারও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

দাবি আদায়ে আগামী রোববার থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে। এ সময় বারৈয়ারহাট-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক ও মিরসরাই-ফটিকছড়ি সড়কে হরতাল পালিত হবে।

তবে হরতালের আওতামুক্ত থাকবে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবার যানবাহন। দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচির সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের হেঁয়াকো বাজারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক ও বাগমারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান একরামুল হক।

লিখিত বক্তব্যে একরামুল হক বলেন, সদ্য ঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর বাসিন্দাদের সবার জন্য সুবিধাজনক স্থানে করা হয়নি।

আগের ফটিকছড়ি উপজেলার কাছাকাছি পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় সদর দপ্তর স্থাপনের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এতে উপজেলার উত্তর অংশের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে না।

তার দাবি, দাঁতমারা ইউনিয়ন ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী যৌক্তিক স্থানে নতুন উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপন করতে হবে।

এ স্থানেই সদর দপ্তর হলে উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ তুলনামূলক সহজে প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।

একরামুল হক জানান, সদর দপ্তরের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের বাসিন্দারা আগামী রোববার থেকে হরতাল পালন করবেন।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হয়েছে ভূজপুর থানা কার্যালয়-সংলগ্ন স্থানে।

তবে এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, ভূজপুর থানা কার্যালয়ের পাশের নির্ধারিত স্থান থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকায় নতুন উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন করা হোক।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, ভূজপুর থানা কার্যালয়ের পাশে সদর দপ্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের সুবিধার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নতুন উপজেলার উত্তরাঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ মানুষের প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করতে সদর দপ্তরকে আরও যৌক্তিক ও সবার জন্য সহজে যাতায়াতযোগ্য স্থানে স্থাপন করা প্রয়োজন।

সদর দপ্তরের স্থান পরিবর্তনের একই দাবিতে গত ১৬ জুলাই হরতাল পালন করেন উপজেলার ছয় ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

ওই দিন নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেঁয়াকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার ইউনিয়নে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

এবার তিন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতালকে ঘিরে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ইস্যুতে আন্দোলন নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে।

একদিকে নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আন্দোলনকারীরা বলছেন-নতুন উপজেলা মানুষের জন্য হলেও সদর দপ্তর এমন জায়গায় হতে হবে, যেখানে উত্তরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ সহজে প্রশাসনিক সেবা নিতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক ও ভূজপুর থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি নুরুল আমীন, বাগানবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি এ বি এম সিদ্দিক, ছাত্র প্রতিনিধি শেখ জাহিদ ও মো. ইমাম উদ্দিন।