
চট্টগ্রামে টানা দাবদাহের পর রোববার (৫ জুলাই) দিনের বেশির ভাগ সময়জুড়ে নেমেছে স্বস্তির বৃষ্টি। তবে সেই স্বস্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফিরে এসেছে নগরবাসীর পুরোনো দুর্ভোগ—জলজট।
অল্প সময়ের মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের অনেকেই পড়েন ভোগান্তিতে।
সকালের পর থেকেই আকাশ ছিল ঘন কালো মেঘে ঢাকা। কখনও হালকা, কখনও মাঝারি, আবার কখনও ভারী বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়াও বইতে থাকে।
এর প্রভাবে নগরের আগ্রাবাদ, জিইসি মোড়, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, দুই নম্বর গেট, হালিশহর ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় সড়কে পানি জমে যায়।
কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। অনেক অফিসগামীকে দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকতে দেখা গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাব এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
দিনভর বৃষ্টিতে আবারও সামনে এসেছে চট্টগ্রাম নগরের খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা।
অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে পানি জমে জনদুর্ভোগ বেড়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। অনেক এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
তবে এই বৃষ্টির ইতিবাচক দিকও রয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবদাহের পর তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় নগরবাসী স্বস্তি অনুভব করেছেন।
কৃষি ও পরিবেশের জন্যও এ বৃষ্টিকে উপকারী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যদিও দিনের বেশির ভাগ সময় পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে মানুষের উপস্থিতি কম ছিল, বিকেলের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কমে এলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে জনজীবন।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, মৌসুমি বায়ু এখনো সক্রিয় রয়েছে। তাই আগামী দুই দিনও বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
এ সময়ে অপ্রয়োজনীয় নৌযাত্রা এড়িয়ে চলা এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বস্তির বৃষ্টি যেমন গরম থেকে মুক্তি দিয়েছে, তেমনি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান এখনো অধরাই।






















আপনার মতামত লিখুন :