
বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘ ২১ বছর পর ফিরেছে এক পরিচিত দৃশ্য। বাউন্ডারির বাইরে দাঁড়িয়ে একদল কিশোর-কিশোরী অপেক্ষা করছে। ব্যাটারের চার কিংবা ছক্কায় বল তাদের কাছে চলে এলে মুহূর্তেই সেটি ফিরিয়ে দিচ্ছে মাঠে।
ক্রিকেটের এই চিরচেনা অনুষঙ্গ একসময় বাংলাদেশেও ছিল নিয়মিত। কিন্তু ২০০৪-০৫ মৌসুমের পর সেটি হারিয়ে যায়। অবশেষে আবারও সেই ঐতিহ্যের প্রত্যাবর্তন ঘটল চট্টগ্রামে, বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের মাধ্যমে।
তবে এবার শুধু পুরোনো প্রথার পুনরাগমনই নয়, এসেছে নতুন পরিচয়ও। ‘বল বয়’ নামে নয়, তাদের ডাকা হবে ‘ফিউচার স্টারস’ নামে। আর এই নামকরণের পেছনে আছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ‘ফিউচার স্টার’-এর ছবি শেয়ার করে তামিম লিখেছেন, ‘বল বয় শব্দটি আমার খুব একটা পছন্দের ছিল না। ওরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই আমি ওদের বলতে চাই ফিউচার স্টারস।’
এই নামের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে একটি বড় দর্শন। বাউন্ডারির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এই কিশোর-কিশোরীরাই হয়তো একদিন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ হয়ে উঠবে।
মাঠের খুব কাছ থেকে খেলা দেখা, প্রিয় ক্রিকেটারদের চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করা, তাদের অনুশীলন ও মানসিকতা বুঝে নেওয়া—এসবই হতে পারে তাদের ক্রিকেট-শিক্ষার প্রথম পাঠ।
ক্রিকেট ইতিহাসে এমন উদাহরণ কম নেই। কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকারের পথচলার শুরু হয়েছিল বল বয় হিসেবে। বাংলাদেশের তামিম ইকবাল নিজেও একসময় এই দায়িত্ব পালন করেছেন।
একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল, শাহরিয়ার নাফিস এবং পাকিস্তানের বর্তমান তারকা বাবর আজমও।
তাই ‘ফিউচার স্টারস’ নামটি কেবল একটি নতুন আখ্যাই নয়; এটি একটি সম্ভাবনার নাম, একটি স্বপ্নের নাম। তামিমও বিশ্বাস করেন, মাঠে থেকে প্রিয় ক্রিকেটারদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ এই শিশু-কিশোরদের অনুপ্রাণিত করবে।
একদিন হয়তো তারাও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার স্বপ্ন দেখবে।
চট্টগ্রামে চলমান সিরিজে অনূর্ধ্ব-১৪ ও অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সভিত্তিক দলের কিশোর-কিশোরিরাই পালন করছে এই দায়িত্ব।
মাঠের একেবারে কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দেখার অভিজ্ঞতা তাদের কাছে নিঃসন্দেহে অনন্য। এটি শুধু দায়িত্ব পালনের সুযোগ নয়, বরং স্বপ্ন দেখারও এক বিরল মঞ্চ।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে ‘ফিউচার স্টারস’-এর এই উদ্যোগ তাই নিছক একটি পুরোনো সংস্কৃতির প্রত্যাবর্তন নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার এক ইতিবাচক পদক্ষেপ।
বাউন্ডারির বাইরে দাঁড়িয়ে আজ যারা বল কুড়িয়ে দিচ্ছে, কাল তারাই হয়তো বাংলাদেশের হয়ে বাউন্ডারি হাঁকাবে—এমন আশাই জাগিয়ে তুলছে এই উদ্যোগ।






















আপনার মতামত লিখুন :