৬ বছরে ১১৫টি ভুয়া ভাউচারে ৭২ লাখ টাকা আত্মসাত!


Csp Admin প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৪, ২০২৫, ৭:৫৭ অপরাহ্ন /
৬ বছরে ১১৫টি ভুয়া ভাউচারে ৭২ লাখ টাকা আত্মসাত!



ক্ষমতার পাওয়ারে বিদ্যালয়কে বানিয়েছিলেন টাকার কল!

নিয়ম না মেনে ঋণ নেওয়ার প্রমাণও পায় নিরীক্ষক

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাকলিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. মাঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। আগে থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে এই দুই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল।

তবে দীর্ঘদিন ধরেই এসব অনিয়ম-দূর্ণীতি চলে আসলেও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও তার আমলাদের ক্ষমতার দাপটে এতদিন তিনি ছিলেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ভয়ভীতির মধ্যে রেখে পুরো বিদ্যালয়ে একক রাজত্ব কায়েম করে আসছিলেন সাবেক বিদ্যালয় প্রধান মো. মাঈনউদ্দিন।

অবশ্য তার সকল অপকর্মের সহযোগী ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজনীন হক চৌধুরী। এমন অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়টিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ।

আগে রটলেও এখন সব প্রমাণ হচ্ছে। একে এক দূর্ণীতি চিত্র সব ফাঁস হতে শুরু করেছে গত ৫ আগষ্ট স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের পর। দুই শিক্ষকের পারস্পরিক যোগসাজশে নিয়োগ জালিয়াতি, ঘুষ গ্রহণ এবং বিপুল অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে অভ্যন্তরীণ অডিট ও প্রশাসনিক তদন্তে।

তোপের মুখে দুই প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকির পর সম্মিলিত আন্দোলনে জনরোষে পড়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ এবং দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ থাকায় দুই শিক্ষকের পদত্যাগ পরবর্তী অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য এলাকাবাসী-শিক্ষার্থী ও বর্তমানে বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা মানববন্ধনসহ আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।

নিজেদের ধুঁয়ো তুলসিপাতা মনে করে যা বলছেন অভিযুক্ত শিক্ষকরা:
তবে এতো কিছুর পরও দূয়ো তুলসিপাতা মনে করে নিজেদের নির্দোশ দাবি করছেন দুই শিক্ষক। তারা পুনরায় স্বপদে বহালের তদবির অব্যাহত রেখেছে। সাবেক প্রধান শিক্ষক মাঈনউদ্দিন বলেছেন, তাকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং স্কুল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ডেকে একটি “উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা অপবাদ” দিয়ে জোর করে স্ট্যাম্পে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। অপরদিকে সহকারী প্রধান শিক্ষিকার পদ ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নাজনীন।

হাইকোর্টের রায় :
বাকলিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার পদ থেকে পদত্যাগের পর হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন নাজনীন। তবে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই তারিখে হাইকোর্ট রিটটি বাতিল করে দেন এবং পদত্যাগ বহাল রাখেন। আদালতের আদেশে তার কর্মস্থলে ফেরার দাবি স্থগিত রাখা হয়।

অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন দপ্তরে অবহিতকরণপত্র:
বিদ্যালয়ের পদত্যাগকারী দুই শিক্ষকের পুনর্বহালের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আপত্তি, পদত্যাগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অবহিতকরণ পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্যাডে বর্তমান পরিচালনা পর্ষন সভাপতি সিটি মেয়র শাহাদাতের স্বাক্ষরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষাবোর্ডের মহাপরিচালক, চেয়ারম্যান, সচিব ও বিদ্যালয় পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে এ পত্র পাঠানো হয়।

গত ১৮ মার্চ বিভিন্ন পাঠানো পত্রে উল্লেখ করা হয়, বাকলিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম এর প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন, (ইনডেক্স নম্বর : C447591) এবং প্রাক্তন সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজনীন হক চৌধুরী, (ইনডেক্স নম্বর : C442375) শিক্ষকদ্বয় গেল বছরের ২০ আগষ্ট পদত্যাগ পত্র দাখিল করে বিদ্যালয়ের কর্মস্থল হতে অনুপস্থিত রয়েছেন।

সংগত কারনে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর সভার ৬ নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রধান শিক্ষক এবং চলতি বছরের ১১ মার্চ সভার ৩ নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ গৃহিত হয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক রেজুলেশন সম্পন্ন হয়েছে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত দুই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, রেড টিসি/রেজিষ্ট্রেশন বাতিলের হুমকিসহ দুর্নীতি ও বিধিবিধান লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যা যথাযথ প্রমাণসহ সংরক্ষিত রয়েছে। এরপর দুই শিক্ষক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং কৌশলী অনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে পুনর্বহালের চেষ্টা করে চলেছেন।

তাদের পুনর্বহাল করা হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হবে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের পুনর্বহালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।

তাছাড়া সাবেক প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিনের নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ, কারণ তিনি পূর্ববর্তী শিক্ষা-উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এর সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। আর ক্ষমতার দাপটে বিদ্যালয়ের সমস্ত লেনদেন সংক্রান্ত কাযক্রমে বিশাল অংকের অর্থ তহরুপ হয়। যা অডিটে প্রমাণ হয়।

এ অবস্থায় পদত্যাগকারী শিক্ষকদ্বয়ের পুনর্বহালে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে গুরুতর অসন্তোষ সৃষ্টি করবে। উল্লেখ্য যে, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণ উভয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মানববন্ধন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং আমার নিকটও বারংবার লিখিত ভাবে অভিযোগ পেশ করেছেন। এসব বিবেচনায় তাদের বিদ্যালয়ে পুনর্বহাল কোনো ভাবে সমীচিন নয়।

দুই শিক্ষকের অনিয়ম-দূর্ণীতি যেভাবে সামনে আসে:
গত ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে মাঈন উদ্দিন এবং চলতি বছরের ১১ মার্চ সহকারী প্রধান শিক্ষিকার পদ থেকে নাজনীন হক চৌধুরী ‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ’ করেন।

নানান অভিযোগে শিক্ষার্থী,অভিবাবক,শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং এলাকাবাসীর তোপের মুখে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক পদত্যাগ করেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পায় শিক্ষক মধুসূদন দাশ। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কয়েকটি অভ্যন্তরীণ সভায় সাবেক প্রধান শিক্ষক মাঈন উদ্দিন ও সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজনীন হক চৌধুরী বিভিন্ন দুর্ণীতি ও অনিয়মের বিষয় সামনে আসে।

বোর্ড সভায় উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন মাঈন উদ্দিন এবং ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন নাজনীন হক চৌধুরী। আর এ সময়ের মধ্যেই যা অনিয়ম হয়েছে তা অবিশ্বাস্য।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ ডিসেম্বর এক বোর্ড সভায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার নির্দেশ দেন। এদিন অভিভাবক সদস্য আশরাফুল আলমকে আহ্বায়ক করে নিরীক্ষা কমিটি করা হয়।

পরে পরিচালনা পর্ষদের অনুমতিক্রমে বিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে জেলা প্রশাসনে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মধুসূদন দাশ। গত মে মাসে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখাও তদন্তের অনুমোদন দেয়।

অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার পাশাপাশি স্বতন্ত্র নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও আর্থিক নিরীক্ষা করানো হয়। এই নিরীক্ষার দায়িত্ব পায় শফিক বসাক অ্যান্ড কোং।

এরপর দুটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনেও প্রমাণ মেলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। তদন্তে উঠে আসে, স্কুলে নেই কোনো ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা, নেই লেজার বুক, রিসিপ্ট বা স্টক রেজিস্ট্রার। আয়-ব্যয়ের উৎস সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ ও অনিয়ন্ত্রিত।

তাছাড়া বিদ্যালয়ের ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের সময়কাল ঘিরে করা অডিট রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রায় ৭২ লাখ টাকার কোনো হিসাব নেই।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা নাজনীন জানান, আর্থিক বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের কোনো হাত থাকে না। সব মিথ্যে বানোয়াট গল্প।

অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটির তদন্ত রিপোর্ট কী বলছে?
সাম্প্রতিক সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি। এতে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি ২০২০ থেকে আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।

সেখানে উন্নয়ন, সরঞ্জাম কেনা, জায়গা ভরাট, জেনারেটর বিলসহ বিভিন্ন হিসাব দেখা গেছে। এর মধ্যে অধিকাংশের ভাউচার নেই, কিছু ভুয়া আবার কিছু ভাউচারে তারিখে কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মাঈন উদ্দিন ব্যক্তিগত গ্যাস বিলের জন্যও টাকা নিয়েছেন।

নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও বিধি লঙ্ঘন :
তদন্তে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও মাঈন উদ্দিন পদে যোগ দেন ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি লঙ্ঘন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার প্রত্যক্ষ সহায়তায় তিনি এ পদে নিয়োগ পান। যোগদানের পরপরই তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত করে এককভাবে সকল প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নেন।

শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়োগেও ঘুষের বিনিময়:
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও তিনি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করেন। এ ছাড়া ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সহকারী প্রধান শিক্ষকের নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ
সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজনীন আক্তার-এর নিয়োগেও অনিয়ম পাওয়া গেছে। নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা প্রথম তিন প্রার্থীকে সমান নম্বর (১৮) দিয়ে কৌশলে তাকে শীর্ষে দেখান।

মৌখিক পরীক্ষায় তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মাঈন উদ্দিন তাকে সর্বোচ্চ নম্বর দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে এ নিয়োগকে ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সম্পন্ন বলে উল্লেখ করা হয়।

স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা প্রতিবেদনেও গড়মিল ৭২ লাখ টাকা!
অভ্যন্তরীণ হিসেবে প্রায় ১৬ লাখ টাকার লেনদেনে গরমিল পাওয়া গেলেও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী এর পরিমাণ আরও বেশি। তারা ৭২ লাখ টাকার হিসাবে গরমিল পেয়েছে।

গত এপ্রিল মাসে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান শফিক বসাক অ্যান্ড কোং। সেখানে ৩০ জুন ২০১৯ থেকে ৩০ জুন ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অন্তত ১১৫টি ভুয়া ভাউচারে ৭২ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

উন্নয়ন, প্রকাশনা, সিসিটিভি ক্রয়সহ নানা খাতে ভাউচার দেখিয়ে এসব অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে এসবের বেশিরভাগের আবার রসিদ নেই। অনেক ক্ষেত্রে রসিদ থাকলেও তাতে নেই অর্থ কমিটির সই।

কিছু ক্ষেত্রে রসিদের তারিখের সঙ্গে মিল নেই ভাউচারে দেওয়া তারিখে। এমন ১১৫টি ভাউচারের মাধ্যমে এসব টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে উঠে এসেছে নিরীক্ষায়।

তাছাড়া সাবেক বিদ্যালয় প্রধান মাঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভবিষ্য তহবিল থেকে নিয়ম না মেনে ঋণ নেওয়ার প্রমাণও পায় নিরীক্ষক।

প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য :
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মধুসূদন দাশ বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। আমরা তার কাছে সব প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।

জেলা প্রশাসনে অভিযোগের পর স্থানীয় সরকার শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বিদ্যালয় ঘুরে গেছেন।

প্রশাসন কী বলছে?
স্থানীয় সরকার শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার এসএমএন জামিউল হিকমা বলেন, ‘আমরা তদন্ত পর্যালোচনা করছি। শীঘ্রই প্রতিবেদন সামনে আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা পরিস্কার হতে বিদ্যালয়টির সাবেক প্রধান শিক্ষক মাঈন উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চোখ রাখুন সিএসপিতে-দ্বিতীয় পর্বে যা থাকছে
শিক্ষক মাঈন উদ্দিনের এত সম্পদ এলো কোত্তেকে?

কোটি কোটি টাকার সম্পদ কিনতে একাধিক বায়না নামা