
জ্বালানি সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের চাপে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল যেন এক অনিশ্চয়তার প্রতিচ্ছবি।
বিদ্যুৎ চলে গেলেই অন্ধকারে ডুবে যায় পুরো হাসপাতাল, আর সেই অন্ধকার ভেদ করে রোগীদের সেবায় ভরসা হয়ে ওঠে চিকিৎসকদের মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পর কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় হাসপাতালজুড়ে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।
তবে এটি শুধু হতকাল বা এক দিনের সংকট নয়। গেল কয়েক সপ্তাহ ধরেই তীব্র লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে নেই কোনো জেনারেটর। একটি আইপিএস থাকলেও সেটি প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে, বর্তমানে সেটিও অচল।
ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেই জরুরি বিভাগ, ওয়ার্ড, করিডর। সবকিছু নিমেষেই অন্ধকারে ঢেকে যায়।
মঙ্গলবার দুপুরে এমন পরিস্থিতিতে জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের ক্ষত পরীক্ষা, ড্রেসিং ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হয়েছে মোবাইলের টর্চের আলোয়। এমনকি রোগীর নথিপত্রে প্রয়োজনীয় নোট লেখার কাজও সম্পন্ন হয়েছে সেই ক্ষীণ আলোয়।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সমস্যা চিকিৎসাসেবাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এতে যেমন বাড়ছে ভোগান্তি, তেমনি তৈরি হচ্ছে উদ্বেগও।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা অনেক রোগীই তাতে বিরক্ত। ক্ষোভের সাথে কয়েকজন জানান, ‘এই হাসপাতালে বিদ্যুৎ এক বড় সমস্যা। জেনারেটর নেই, আইপিএসও নষ্ট থাকে। এখন আবার ভয়াবহ লোডশেডিং।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামিয়া ইসলাম নিপুণ জানিয়েছেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় সারাদিন অন্ধকারে কাজ করতে হয়। মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে হাসপাতালে রাউন্ড দিতে হচ্ছে। কষ্ট হলেও রোগীদের সেবা অব্যাহত রয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন অব্যবস্থা শুধু দুঃখজনকই নয়, উদ্বেগজনকও।






















আপনার মতামত লিখুন :