চট্টগ্রামে বোধনের বসন্ত বন্দনা


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ন /
চট্টগ্রামে বোধনের বসন্ত বন্দনা

‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। তব অবগুন্ঠিত কুন্ঠিত জীবনে’… ‘এলো বনান্তে বসন্ত। বনে বনে মনে মনে রং ছড়ায় রে, চঞ্চল তরুণ দুরন্ত’… শীতকে আনুষ্ঠানিক বিদায় দিয়ে ভালোবাসার দিনে ফাল্গুনী সমীরণ; পাতাঝরা পলাশ আর শিমুলের ডালে ডালে যে রঙ লেগেছে।

তাকে বরণ করতে দেশের পুরোধা সংগঠন বোধন আবৃত্তি পরিষদ, চট্টগ্রাম পহেলা ফাল্গুন শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বন্দর নগরীর পাহাড়তলীর শহীদ ওয়াসিম পার্কে আয়োজন করে বসন্ত উৎসব- ১৪৩২।

উৎসবের আঙিনায় ছিল সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, ঢোলবাদন, কথামালা, শোভাযাত্রা, যন্ত্রসংগীতসহ নানা আয়োজন।

সকাল ৯ টায় ভায়োলিনিস্ট চিটাগাং এর যন্ত্রসংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বসন্ত উৎসবের আয়োজন।

বসন্তের হাওয়ায় দলীয় নৃত্যে অংশ নেন নৃত্যরূপ, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ, দ্যা স্কুল অব ক্লাসিক্যাল এন্ড ফোক ডান্স, নৃত্য নিকেতন, মাধুরী ডান্স একাডেমি এর শিল্পীরা।

গানে গানে দলীয় সংগীতে বসন্তকে স্বাগত জানান সুর পঞ্চম, আর কে মিউজিক, বাগেশ্বরী।

একক গান পরিবেশন করেন কেশব জীপসী, ঋষু তালুকদার, চন্দ্রিমা ভৌমিক রাত্রি, কান্তা দে, সুমিতা সরকার, রিনা দাশ, মনি আচার্য্য।

তবলা লহড়ায় ছিলেন উঠান সংগীত বিদ্যালয়। একক আবৃত্তি করেন কংকন দাশ, মিশফাক রাসেল, দেবাশীষ রুদ্র। ঢোলবাদনে ছিলেন দীপক ও তার দল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যভাগে হয় বসন্তকথন পর্ব।

এতে অংশ নেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বোধনের সহ-সভাপতি সুবর্ণা চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ ইসমাইল সোহেল, অর্থ সম্পাদক অনুপম শীল।

মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও শোষণহীন সমাজ গঠনের জন্য বাঙালির এসব উৎসব-পার্বণগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে এসময় বক্তারা বলেন, সারা বছরের নানান বঞ্চনা, নানান টানাপোড়েনের গ্লানি মুছে যায় এই বসন্তে। এই ফাগুনেই রক্তে রঞ্জিত হয়েছে বাংলার রাজপথ। বুকের রক্তে বাঙালি রক্ষা করেছে মাতৃভাষার মর্যাদা।

পরে একক ও দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করেন বোধন আবৃত্তি পরিষদের আবৃত্তিশিল্পীরা।

পুরো অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন গৌতম চৌধুরী, পলি ঘোষ, শ্রেয়সী স্রোতস্বীনি, ঋত্বিকা নন্দী, পল্লব গুপ্ত।

অনুষ্ঠান শেষে বসন্ত বরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।