
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে দেশের ক্রিকেটের টালমাটাল অবস্থা। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বাদ দিয়েছে আইসিসি।
বাংলাদেশের বদলে সেখানে খেলবে স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশের ক্রিকেটের এমন অস্থির সময়ে বিসিবি জানিয়েছে এক চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত।
জাতীয় দলের জন্য আবারও বিবেচনা করা হবে দেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে।
সব ঠিক থাকলে ২৫ জানুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতের উদ্দেশ্যে যেত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ।
দেশের ক্রিকেটের এমন টালমাটাল ও অস্থির সময়ে বিসিবি নিয়েছে চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত।
কিছু শর্ত পূরণ করা সাপেক্ষে জাতীয় দলের জন্য আবার বিবেচিত করা হবে বিশ্বসেরা সাবেক অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে।
বিসিবিতে শনিবার পরিচালনা পর্ষদের দীর্ঘ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন।
‘আপনারা অনেকেই ইতোপূর্বে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন করেছিলেন, অনেক ধরনের প্রশ্ন, আলোচনা বা অনেক উত্তর খুঁজতে চেয়েছেন, আপনাদেরকে অবগত করতে চাই, আমাদের বোর্ডে এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে।’
‘সর্বোসম্মতিক্রমে বোর্ড গ্রহণ করেছে যে, সাকিব আল হাসানের অ্যাভেইলঅ্যাবিলিটি, ফিটনেস এবং অ্যাকসেসিবিলিটির ওপর ভিত্তি করে এবং পাশাপাশি যেখানে খেলা হবে ভেন্যুতে, সেখানে যদি উপস্থিত থাকার মতো ক্যাপাসিটি থাকে, অবশ্যই বোর্ড বা নির্বাচক কমিটি সাকিবকে পরবর্তীতে নির্বাচনের জন্য বিবেচিত করবে।’
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই সরকারের সংসদ সদস্য সাকিব আর দেশে ফিরতে পারেননি। ওই বছরের অক্টোবরে দেশের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কথা ছিল তার।
সেই ম্যাচ খেলতে দেশের পথে থাকলেও পরে নিরাপত্তা শঙ্কায় তাকে থমকে যেতে হয় মাঝপথেই। সেই থেকে সাকিবের ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছে।
পরবর্তীতে নানা সময়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এই অলরাউন্ডার বলেছেন, দেশের মাঠ থেকেই তিনি ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চান।
সাকিবের ফেরার সম্ভাব্যতা নিয়ে নানা সময়েই বিসিবির কাছে নানা প্রশ্ন করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই আলোচনা ছিল না একদমই। কিন্তু এমন এক দিনে সাকিবকে নিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলো, যেদিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইসিসি, যেদিন বিসিবি পরিচালকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন প্রভাবশালী বোর্ড পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক এবং যখন দেশের ক্রিকেটের অবস্থা টালমাটাল।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠলো সংবাদ সম্মেলনে, সবকিছু আড়াল করতেই কি সাকিবের প্রসঙ্গটি জাগিয়ে তুলতে এই দিনটি বেছে নেওয়া হলো? বিসিবি পরিচালক আমজাদের দাবি অবশ্য ভিন্ন।
আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এটা আমাদের বোর্ডের সিদ্ধান্ত। এটা আসলে আজকের মিটিংয়ে হবে নাকি কবে মিটিংয়ে হবে, এভাবে তো আসলে আপনার বোধহয় জবাবদিহিতার মধ্যে আনা ঠিক না।
কারণ বোর্ডের এজেন্ডার মধ্যে থাকে-আজকে আমাদের কেন্দ্রীয় চুক্তির সব ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স ও অ্যাভেলইঅ্যাবিলিটি নিয়ে রিভিউ করা হয়েছে। ওখান থেকে আমাদের আলোচনাটা এসেছে, টু বি ভেরি স্পেসিফিক।’
শর্ত পূরণ করলে দেশে ও বিদেশে সব সিরিজেই সাকিবকে বিবেচনা করা হবে বলে জানালেন এই বোর্ড পরিচালক।
সাকিবকে দলে বিবেচনার ক্ষেত্রে যে শর্তগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেসবের সঙ্গে তার আগের বাস্তবতার পার্থক্য নেই। যেসব কারণে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না, সবকিছুই ঠিক আগের মতো আছে।
সংবাদ সম্মেলনে থাকা বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানালেন, সাকিবের খেলার পথে বাধাগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন বিসিবি সভাপতি।
দেশের বাইরের টুর্নামেন্টগুলোতেও সাকিবের খেলার কোনো বাধা থাকবে না বলে জানালেন বোর্ড পরিচালক আমজাদ হোসেন।
একদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া আর অন্যদিকে সাকিবের ফেরার এই নাটকীয় মোড়-সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেট এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
বিসিবির এই ‘শর্তসাপেক্ষ’ সিদ্ধান্ত কি সাকিবকে আবারও ২২ গজে ফেরাতে পারবে? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো বড় সমীকরণ?






















আপনার মতামত লিখুন :