রাউজানে হামলার ৫ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মন্নানের মৃত্যু, অভিযুক্ত ভাই পলাতক


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুন ২৯, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন /
রাউজানে হামলার ৫ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মন্নানের মৃত্যু, অভিযুক্ত ভাই পলাতক

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে পারিবারিক বিরোধের জেরে জেঠাতো ভাইয়ের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার কয়েক দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মোহাম্মদ আবদুল মন্নান সওদাগর (৩৭)।

তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত হামলার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জানিপাথর বাজারে জেঠাতো ভাই শাহাজানের সঙ্গে আবদুল মন্নান সওদাগরের কথাকাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে শাহাজান কাঠের গুঁড়ি বা গাছের ডাল দিয়ে মন্নানের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নগরীর বেসরকারি সাজিনাজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (২৮ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত আবদুল মন্নান সওদাগর রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ কবির আহাম্মদের ছেলে। অভিযুক্ত শাহাজান একই এলাকার সালেহ আহমদের ছেলে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যুর খবর পুলিশ পেয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য, হলদিয়া ইউনিয়নে গত কয়েক বছরে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তীতা গাজীপাড়ায় প্রকৌশলী মুহাম্মদ নুরুল আলম বকুল নিজ মা ও ভাইয়ের হাতে নিহত হন।

একই বছরের ১৫ মার্চ প্রতিপক্ষের হামলায় কমর উদ্দিন জিতু নামে এক যুবদলকর্মী নিহত হন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের পর থেকে হলদিয়া ইউনিয়নে এ নিয়ে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

একই সময়ে পুরো রাউজান উপজেলায় অন্তত ৩০টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, এর মধ্যে প্রায় ১৮টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোকের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।