বাকলিয়ার আলোচিত ধর্ষণ মামলায় দ্রুত বিচার শেষে মনিরের যাবজ্জীবন


Rajib Sen Prince প্রকাশের সময় : জুন ১৭, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ন /
বাকলিয়ার আলোচিত ধর্ষণ মামলায় দ্রুত বিচার শেষে মনিরের যাবজ্জীবন

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি মনির হোসেনকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আজ বুধবার দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল (মহানগর), চট্টগ্রামের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত মাত্র ২৬ দিনের মাথায় এবং বিচার শুরু হওয়ার মাত্র আট কার্যদিবসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করেন, যা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেলা ২টা ২০ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয় এবং বেলা ৩টায় তা শেষ হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশুধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্যতম অপরাধ।

এটি শুধু শারীরিক ক্ষতি নয়, শিশুর মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আদালত আরও মন্তব্য করেন, শিশু সমাজের সবচেয়ে অসহায় অংশ, এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তি যখন একটি শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালায়, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়; বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও আঘাত করে।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদুল আলম চৌধুরী জানান, বিচার শুরু হওয়ার আট কার্যদিবসের মধ্যে রায় ঘোষণা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বাকলিয়া এলাকার চেয়ারম্যানঘাটা থেকে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শত শত মানুষ পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং আসামিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। একপর্যায়ে রাতের অন্ধকারে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশলে আসামিকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।

পরদিন ২২ মে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

পরে ৪ জুন পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়, যেখানে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়। ৯ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

রায় ঘোষণার পর শিশুটির মা বলেন, আদালতের রায়ে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তবে তিনি জানান, আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে আরও সন্তুষ্ট হতেন।

একই দিনে চট্টগ্রাম আদালতে আরও একটি আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা হয়।

বেলা একটার দিকে শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার মামলায় আসামি মো. আবিরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায়কে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংবাদকর্মী ও বিচারপ্রার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়।